
ডেটলাইন: পর্ব ৪৮
‘আমাদের দলে ছিল এক এক্সপার্ট ট্রাভেল ব্যবসায়ী, আগে বহুবার এসেছে ভেগাসে। সে দাবি করল, সে নাকি যতবারই ক্যাসিনোতে খেলেছে, ততবারই বিরাট টাকা জিতেছে। এরকম আমি আগে শুনেছি ভেগাস ফেরত লোকজনের মুখে, তাই বিশ্বাস করলাম না মোটেও।’

‘আমাদের দলে ছিল এক এক্সপার্ট ট্রাভেল ব্যবসায়ী, আগে বহুবার এসেছে ভেগাসে। সে দাবি করল, সে নাকি যতবারই ক্যাসিনোতে খেলেছে, ততবারই বিরাট টাকা জিতেছে। এরকম আমি আগে শুনেছি ভেগাস ফেরত লোকজনের মুখে, তাই বিশ্বাস করলাম না মোটেও।’

‘সে যাকগে, আমরা ফাটাকেষ্ট, হাতকাটা ছোটন, শ্মশান স্বপন, এসব নাম শুনে অভ্যস্ত। ওইসব সাহেবি অপরাধীদের নাম শুনিনি কস্মিনকালেও।’

‘‘কুয়াশা ছাড়া আর যে-রহস্য সান ফ্রান্সিসকোতে ট্যুরিস্টদের অবাক করে দেয়, তা হল যখন-তখন কনকনে ঠান্ডা হাওয়ার দাপট। এটা নিয়েও বেশ গর্বিত এখানকার মানুষ। এটা নাকি প্রাকৃতিক এয়ার কন্ডিশনিং ব্যবস্থা। যাকে পরিবেশ বিজ্ঞানের ভাষায় ‘চিমনি এফেক্ট’ বলা হয়। কুয়াশার নেপথ্যে যে কারণ, এর পিছনেও তাই।’’

‘‘আমাদের পেছনে বসেছিলেন এক ফিলিপিনো প্রৌঢ়, তিনি শান্ত গলায় বললেন, ‘এটা আমার থার্ড দিন, এই ফ্লাইটে যেতে পারলাম না।’ শুনে তো আমাদের আত্মারাম খাঁচাছাড়া। কলকাতা স্টাইলে আমরা চড়া গলায় জানতে চাইলাম কাউন্টারের মহিলার কাছে, ‘ফ্লাইট ছাড়বে কখন?’’’

এমন মারাত্মক একটা গাম্ভীর্য আছে ওয়াশিংটন ডিসির, একলহমায় বুঝিয়ে দেয়, হুঁ হুঁ বাওয়া, যেখানে সেখানে নয়, তুমি পা রেখেছ দুনিয়া শাসনের এপিসেন্টারে। ওদিকে হোয়াইট হাউস, তো এদিকে ক্যাপিটল, সেদিকে ন্যাশনাল মিউজিয়াম তো অন্যদিকে লিংকন মেমোরিয়াল। ভেতরে ঢোকার আগেই থমকে দাঁড়াতে হয়, সবই এত বিশাল।

‘অপরাধপ্রবণ শহর হিসেবে আমেরিকায় বাল্টিমোরের স্থান তৃতীয়। আর ড্রাগের খোলাবাজার, বিশেষ করে ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে মাদক নেওয়ার অভ্যেস এই শহরের নতুন প্রজন্মের একটা বড় অংশকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।’

‘লক্ষ করে দেখেছি, আমেরিকানরা হাইওয়ে আর গাড়ি— এই দুটো ব্যাপার নিয়ে বেশ আবেগপ্রবণ। নামকরা হাইওয়ে আর গাড়ির নম্বর-প্লেট লেখা ট্যাবলেট বিক্রি হয় স্যুভেনির শপে। লোকে সাজিয়ে রাখে বাড়িতে। কথাবার্তা বলে জেনেছি এর পিছনে কী কারণ থাকতে পারে।’

আইনস্টাইনের আসবাব-প্রীতির গল্প কিন্তু সত্যি। নাৎজিদের চোখ এড়িয়ে একটা-দুটো নয়, পঁয়ষট্রিটা আসবাব তিনি চোরাপথে আনিয়েছিলেন জার্মানি থেকে প্রিন্সটনে। এর মধ্যে খুব প্রিয় আরামকেদারাটি দেখার সৌভাগ্য হল। হিস্টরিক্যাল সোসাইটি অফ প্রিন্সটন মাঝে-মাঝেই বিজ্ঞানীর আসবাবের প্রদর্শনী করে ‘আইনস্টাইন অ্যাট হোম’।

‘জুলাইয়ের ফুরফুরে বিকেল। যে-বিকেল ফুরোয় না। আমরা পুবের লোক। আমাদের দেশে ছ’টা-সাড়ে ছ’টায় অফিসবাবুর মতো নিয়ম মেনে সূর্য অস্ত যায়। যত পশ্চিমে যাই, ঘড়ির কাঁটা আটটা ছুঁলেও সূয্যি ডোবে না, এ আবার কেমন অনাচার?’

‘‘কথার কিন্তু নড়চড় হয়নি একদিনও। যত জটিলই হোক সেই কাগজ তৈরির পদ্ধতি, নিউ ইয়র্ক-কলকাতা-নিউ ইয়র্ক-লং আইল্যান্ড চেন ছিল পারফেক্ট। নিউ ইয়র্কে বসে লেখা হচ্ছে খবর, তোলা হচ্ছে ছবি, পাঠানো হচ্ছে কলকাতায় ‘আজকাল’ দপ্তরে লে আউটের জন্য।’’

‘শেষ পর্যন্ত সবার পাত আলো করে পড়ে আছে ঐ বিচিত্র ডেলিকেসি। ভাগ্যিস আলো আঁধারিতে মালুম হচ্ছে না খাবার নষ্টের বহর! হোটেলে ফিরে চানাচুর খেতে-খেতে আমার বন্ধু বলেছিল, ’কী যে করে! এত দামী জায়গায় নিয়ে যাওয়ার কী দরকার ছিল?’

‘দফায়-দফায় চাঁদা তুলে মূর্তি তৈরি তো হল, ১৮৮৪ সালে প্যারিসে সেটি তুলেও দেওয়া হল মার্কিন প্রতিনিধির হাতে। কিন্তু মূর্তির বেদী তৈরি হয়নি তখনও, ফান্ডও নেই। রীতিমতো ক্রাউডফান্ডিং করে টাকা তোলা হল। ১৮৮৬-র ২৮ অক্টোবর প্রেসিডেন্ট ক্লিভল্যান্ড জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করলেন স্ট্যাচু অফ লিবার্টি।’
This Website comprises copyrighted materials. You may not copy, distribute, reuse, publish or use the content, images, audio and video or any part of them in any way whatsoever.
©2026 Copyright: Vision3 Global Pvt. Ltd.