
সম্পাদকের রাজনীতি
বিস্মরণ ও মিথ্যা-স্মৃতি নির্মাণের কালে দাঁড়িয়ে তাঁর আড়ালে থেকে যাওয়া লেখাগুলিকে আরেকবার পড়া জরুরি নয় কি? যখন কিনা ইতিহাস নিছক জ্ঞানচর্চার একটা শাখা হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই, ইতিহাস-চর্চা নিজেই হয়ে উঠেছে বোমা তৈরির কারখানা।

বিস্মরণ ও মিথ্যা-স্মৃতি নির্মাণের কালে দাঁড়িয়ে তাঁর আড়ালে থেকে যাওয়া লেখাগুলিকে আরেকবার পড়া জরুরি নয় কি? যখন কিনা ইতিহাস নিছক জ্ঞানচর্চার একটা শাখা হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই, ইতিহাস-চর্চা নিজেই হয়ে উঠেছে বোমা তৈরির কারখানা।

‘লেখাপড়া মানে তাঁর কাছে আর যাই হোক স্মৃতির লড়াই নয় কখনওই। শিক্ষার্থীর কাছে চিরদিন তাঁর আবেদন ছিল চেতনায়, মননে।’

সুবিমল বসাকের প্রয়াণের পর, তাঁর বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় তাড়া-তাড়া চিঠি। সামান্য কয়েকটি ইতিপূর্বে প্রকাশিত হলেও, অধিকাংশই অপ্রকাশিত। অপ্রকাশিত চিঠির সেই ভাণ্ডার থেকে নির্দিষ্ট কয়েকটি চিঠি নির্বাচন করে এই ধারাবাহিকের পরিকল্পনা। এই পর্বে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের চিঠি।

‘একটা দেশ বা সমাজ যখন স্বার্থান্ধ আত্মাবমাননা-আত্মসমর্পণের গড্ডলিকা-প্রবাহে ক্রমশই পঙ্কে নিমজ্জিত হতে থাকে, তখন যেমন সেই ‘প্রতিক্ষণ’-এর জন্য নিষ্ফল বিলাপ করি, আর আত্মপ্রত্যয়ী বিবেকী বন্ধু স্বপ্নাকে শেষ নমস্কার জানাই।’

‘প্রিয়ব্রত বাবু এবং স্বপ্না দেব সর্বময় কর্তা-কর্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও, একটা দুর্লভগুণের অধিকারী ছিলেন। যাঁর যা কাজ, সেখানে কখনও হস্তক্ষেপ করতেন না। লেখক কিংবা শিল্পীর কাজের ব্যাপারে নীরবই থাকতেন। বলা ভাল, শিল্পীকে স্বাধীনতা দিতেন।’

‘‘কাজের ক্ষেত্রে স্বপ্নাদি ছিলেন অত্যন্ত একনিষ্ঠ, যাকে বলে ‘সিরিয়াস’। মাঝে-মাঝেই চলে যেতেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বা বাংলাদেশে। কোনও একটি ঘটনা সামগ্রিকভাবে নিরীক্ষণ করে ফিরে এসে লিখতেন বিশ্লেষণাত্মক লেখা। সে-লেখার ধার ও ভার দুই-ই ছিল অবিস্মরণীয়।’’

‘আমরা যখন কারুর জীবনী পড়ি, তখন কি তা শুধু সেই মানুষটার জীবনকে চেনার বা জানার জন্য, না কি তাঁর জীবনকে ভিত্তি করে নিজের জীবনের ওঠাপড়ার গল্পগুলকেও খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করি আমরা?’

‘গৃহ’ নামক প্রবন্ধে মেয়েদের বাড়ি বা নিজের স্পেস নিয়ে যাবতীয় দোটানার কথা তিনি লিখছেন, সেই দ্বিধাদ্বন্দ্বের কাহিনি মিলে যায় ‘ডেলিসিয়া হত্যা’-র উপন্যাসের সঙ্গে। এই সাদৃশ্য plagiarism নয়, বরঞ্চ রোকেয়া ইঙ্গিত করছেন, যাকে আমরা এখন বলি, ‘ফেমিনিস্ট সিস্টারহুড’।

‘অদ্রীশ বর্ধনের অনুবাদের উপরে অভিযোগ এসেছে যে— বঙ্গীকরণ করতে গিয়ে তিনি বহু অংশ বাদ দিয়েছেন। অদ্রীশ যখন অনুবাদ করতেন, তখন বাঙালি পাঠকের কাছে ইংল্যান্ড-আমেরিকা গ্লোবালাইজেশনের দৌলতে এতটা কাছে চলে আসেনি। সাত ও আটের দশকের শিশু-কিশোররা এই অনুবাদগুলির মাধ্যমেই বিশ্বসাহিত্যের এবং পাশ্চত্যবিশ্বের স্পর্শ পেত।’

‘তাঁর জীবন ও লেখালেখিতে বাঙালির রেনেসাঁস প্রদীপের আলো ও তার তলার অন্ধকার— দুটোই বড্ড স্পষ্ট। প্যারীচাঁদের চরিত্রের যে-স্ববিরোধ, তা নিয়ে হুতোম ব্যঙ্গ করলেও আমরা সেটিকে তাঁর স্বভাবের বৈচিত্র্য হিসেবে দেখব;’

‘তোমারও ঘুমের রং কফির মতোই নীল কড়া ও কাফের/ যেমন নাটক ছিল পাড়ার মলিন স্টেজে ছোটকাকাদের/ তেমনই তোমার মন দুটো ছোট হাততালি জড়িয়ে ঘুমোয়/ বিরহ রাহুল দেব গুলজার হয়ে এসে পাশ ফিরে শোয়’

‘নবনীতা দেবসেন তার মায়ের গল্পগুলি পাঠ করতে গিয়ে বলেছেন যে, সবক্ষেত্রেই মেয়েরা এখানে পর্যুদস্ত, অবহেলিত এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার শিকার। তাদের ক্ষোভে ফেটে পড়তে বা প্রতিবাদ করতে দেখা যায়না, বরং কোনও এক গভীর আত্মত্যাগ ও সংযমে তারা আত্মবিশ্বাস খুঁজে পায়।’
This Website comprises copyrighted materials. You may not copy, distribute, reuse, publish or use the content, images, audio and video or any part of them in any way whatsoever.
©2026 Copyright: Vision3 Global Pvt. Ltd.