গান্ধী পিস ফাউন্ডেশনে অনুপম মিশ্রর ঘরে দেওয়ালে টানানো ছিল ১৮৭৫ সালের দিল্লির একটা মানচিত্র। সামনে যমুনা নদীর ধারা, পিছনে আরাবল্লি পর্বতের বিস্তার। সেই পাহাড় থেকে ছোট-মাঝারি এগারোটি ধারা এসে নেমেছে যমুনায়। সামনে-পিছনে প্রাকৃতিক দুর্গমতার সুরক্ষা আর আশপাশে সজল-শ্যামল সিঞ্চিত ভূমি। ঘুরেফিরে এইখানেই হস্তিনাপুর থেকে নয়াদিল্লি, ভারতের বরাবরের রাজধানী। সবচেয়ে কেন্দ্রিত, প্রাকৃতিকভাবেই সবচেয়ে সুরক্ষিত এবং জলের সমস্যাবিহীন। যে-কোনও সভ্যতাই কোথাও নিজের আসন পাতার আগে প্রথম দেখে নেয়, সেখানে জলের প্রাপনীয়তা কতখানি। আদিবাসী গ্রামপ্রতিষ্ঠা থেকে সামরিক দুর্গস্থাপনা পর্যন্ত চিরকালের এই নিয়ম। সুখ্যাত পাঞ্জাবি লেখক শ্রীমতি অজিত কৌর দেশভাগের পর দিল্লিতে এসে বসতি করা জীবনের স্মৃতিচারণায় লেখেন, বিশ শতকের পাঁচের দশকে কলেজ থেকে ফেরার পথে দিল্লির রিজ (ridge)-এর পথ দিয়ে প্রণয়ীর সঙ্গে সাইকেল হাঁটিয়ে নিয়ে ফেরার কথা। কখনও বা শেষ বিকেলে উদাস বসে থাকা সেই পাহাড়ি অঞ্চলের ঝোপজঙ্গলে ভরা পাথুরে উচ্চতায়।
তার প্রায় পঞ্চাশ বছর পর আমি দেখেছিলাম, দিল্লি থেকে জয়পুর যাওয়ার পথের আড়ালে বিস্তৃত নেমী নামের এক জায়গা। যেখানে, আরাবল্লির পায়ের কাছে, কোলের কাছে, এককালে এত জঙ্গল ছিল যে, তার নাম হয়েছিল নমী অর্থাৎ ভেজা স্যাঁতসেঁতে থেকে— নেমী। পরবর্তীকালে জয়পুর রাজপ্রাসাদের রসুইয়ের কাঠের যোগান দিতে দিতে বৃক্ষশূন্য হয়ে যাওয়া সেই জায়গাটির পরিচিতি হয়ে যায় নেমী ডেজার্ট বলে। যেমনভাবে আমাদের অনেক নদী নামাঙ্কিত হয়েছিল অমুকের দুঃখ, তমুকের দুঃখ বলে। ২০০০-’০২ সালে আমরা একদল জল-পরিব্রাজক রাষ্ট্রসংঘের FAQ-সংগঠিত একযাত্রায় দিল্লি থেকে রাজস্থানের বৃষ্টিজল সংরক্ষণের কাজ দেখতে সেখানে যাই। পাদপশূন্যতার থেকে আবার বাসস্থান করে তোলা চেষ্টা চলছিল সেখানে। স্থানীয় মানুষরাই করছিলেন।
“গত দশ বছর ধরে জলধরার কাজ হচ্ছে এখানে। সামনের পাহাড় সবুজে ঢাকা। পাহাড়ের মুখোমুখি উঁচু এক মাঠে প্রাচীন প্রকাণ্ড বটগাছের নিচে বসে ছিলাম আমরা। এখন উঠে এগোচ্ছি। বৃক্ষশূন্য পাহাড় থেকে মাটি ধুয়ে নিয়ে যেত বৃষ্টির জল। নিজেদের পুরনো ধরনের শিক্ষায় লোকেরা তৈরি করেছেন বড় পাহাড়ের পায়ের কাছে বিশাল লম্বা এক মাটিপাথর জড়ো করা দেওয়াল। এই বাঁধে জল আটকেই ক’বছরে ধীরে ধীরে মাটিতে ঘাস, খেতে ফসল, পাহাড়ে তরুণ গাছের জঙ্গল। তীব্র রোদ্দুরে চারিপাশের সবুজ থেকে যেন আলো ঠিকরে পড়ছে। এপাশে ওপাশে কাজ করছে লোকজন। কুয়োয় জল এসেছে। ভুট্টার মতো কী যেন খেত, তার গোড়ার মাটি কাদা হয়ে আছে। আমরা পাহাড়ের পায়ের কাছে সেই মাটিপাথরের দেওয়ালের ওপরে উঠে এসেছি। এবার আমাদের সামনে একটুখানি সরস সতেজ ঘাসজমি, ঘরবাড়ি। পাথুরে দেওয়াল, জীর্ণ চেহারা তবু মানুষের নিজেদের ঘরবাড়ি। তারপর সটান উঠে গিয়েছে উঁচু পাহাড় (জলের নাম ভালবাসা)।”
আরও পড়ুন : গণতন্ত্রর লজ্জাকে প্রকাশ্য করল এপস্টিন ফাইল!
লিখছেন আদিত্য ঘোষ…
দিল্লির আজকের অবস্থা দেখে যে-কোনও সাধারণ মানুষও বুঝতে পারবে আরাবল্লি পাহাড়ের থাকা না-থাকায় কতখানি তফাত হয়ে গেছে, এই নগর এবং পরিপার্শ্বের আবহাওয়ায়। সমগ্র রাজস্থান ঘুরলে দেখা যায় অপেক্ষাকৃত কম বৃষ্টিপাতের সেই বিশাল রাজ্যে কত বিচিত্রভাবে আরাবল্লি পাহাড়ের উপস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে জলমাটিতে সুস্থিত জীবনযাপন করেন বিভিন্ন জীবিকার সাধারণ লোকজন। কয়েক লক্ষ মানুষের প্রাণধারণ ও সুস্থ থাকার জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় জলের প্রধান আধার এই প্রাচীন ও সুবিশাল পর্বতমালা। সেক্ষেত্রে বিচ্ছিন্ন কিছু ইঞ্চি-ফুট-মিটারের উচ্চতা কী করে এই বিশাল, জটিল প্রাকৃতিক সংস্থানের অস্তিত্ব-নির্ণায়ক মাপকাঠি হয়, একথার আলোচনাই কোনও কষ্টকল্পিত পরাবাস্তবের মতো। জলের আধার অর্থ, সমস্ত বনাঞ্চল, তৃণভূমি, পর্বতের উদ্ভিদ ও প্রাণীসংস্থান, লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রাচীন সমাজ ও সংস্কৃতি, প্রকৃতি-নির্ভর তাঁদের উৎপাদন ব্যবস্থা— সমস্তটা যে কত দৃঢ়ভাবে আরাবল্লির সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়ানো, তা বোঝার জন্য বিশেষজ্ঞ হওয়ার দরকার পড়ে না, ন্যূনতম বাস্তবজ্ঞান দিয়েও জানা যায়। এই সমগ্র পারস্পরিক শৃঙ্খলা এক-দুই দশকে তৈরি হয়নি, অনেক সহস্র বছরে বহু প্রজন্ম ধরে এ গড়ে উঠেছে। দেশের বিরাট-সংখ্যক নাগরিকদের জীবন-জীবিকা, তাঁদের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি যা এ-দেশের সম্পদ, সেই সবকিছুকে এক লহমায় অগ্রাহ্য করে দেশের অন্যতম বৃহৎ এবং নির্ণায়ক প্রাকৃতিক সংস্থানটি, যে কোনও যুক্তিতেই, ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত কী করে নেওয়া হতে পারে? দেশের প্রকৃতি কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। এমনকী, কেবল মনুষ্যপ্রজাতিরও নয় তা। প্রকৃতির সর্বসম্পদের ওপরে সকলের অধিকারই সার্বভৌমত্ব। সর্বভূমির অধিকার। সেই অধিকার ব্যবহার ও রক্ষা করার, ক্ষতি বা ধ্বংস করার নয়, যেহেতু এ-সকল সম্পদ সৃষ্টি করা কারওরই সাধ্যাতীত।

এমন নয় যে, এ-কথা এই প্রথমবার বলা হচ্ছে। কারণ এই সংকটও এই প্রথম নয়। গত দুই-তিন দশক ধরে নিয়মিত সংগঠিতভাবে প্রাকৃতিক ঐশ্বর্যে অতিসমৃদ্ধ ভারতবর্ষের প্রাকৃতিক ঐশ্বর্য টুকরো-টুকরোভাবে মানুষ এবং অন্য প্রাণীকুলের সাধারণ অধিকার থেকে সরিয়ে দেশ ও বিদেশের ব্যক্তিগত মালিকানা/বহুজাতিক সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। গত দশকের শুরুতে মধ্যপ্রদেশের শিওনাথ নদীর কিছু অংশ কৈলাস সোনি নামে শিল্পপতির হাতে বিক্রি করে যখন সেই এলাকার মৎস্যজীবীদের জাল ছিঁড়ে দিয়ে তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়, দেশের বহু সচেতন মানুষ চমকে উঠেছিলেন। নদী বিক্রির মতো অশ্রুতপূর্ব ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন বলেই ভেবেছিলেন অনেকে। তারপরও ক্রমশ পশুপালক জাতিদের চারণভূমি, যা সমাজের সকলের সম্পত্তি বলেই চিরকাল ধরে স্বীকৃত ছিল, সরকার স্বয়ং উন্নয়নের নামে ধনী, উঁচুজাতির সপক্ষে সেই সব জমি দখল করে অন্য ‘কাজে’ লাগাল। আজ এটা প্রায় স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পৃথিবীর প্রাচীনতম পর্বতশ্রেণির অন্যতম, পশ্চিমঘাট পর্বতমালার বিরাট অংশ কেটে ফেলে তার Ecologically sustainable সার্টিফিকেট পাওয়া অংশ বাদে বাকিটা ধ্বংসযোগ্য বলে তার সীমাহীন উন্নয়ন হয়। ভারতের প্রাণী-মানচিত্র থেকে বাদ চলে যায় অজস্র পাখী, পশু, কীটপতঙ্গ ও মানুষদের বাসস্থান। ভেঙে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় প্রাচীন তীর্থস্থান-সমূহ, পবিত্র নদী, দীর্ঘকালের খাদ্যাভ্যাস ও সামাজিক সংস্কৃতি। জীবিকাছিন্ন মানুষদের এক বিরাট প্রবাহ সহরের সস্তা শ্রমিক হওয়ার জন্য খসে আসে। সঙ্গে ধ্বংস হয়ে যায় পুণা-মুম্বই-সহ দেশের পশ্চিমাঞ্চলের প্রাকৃতিক শৃঙ্খলা, ঋতুসম্পৃক্ত নিয়মাবলি, প্রাণীজগতে, সুতরাং মানুষেরও, জীবনযাপনের অভ্যস্ত স্বাভাবিকতা। শুধু পশ্চিমাঞ্চল নয়, সমস্ত দেশ থেকে প্রাকৃতিক সম্পদের অধিকার হারানো মানুষেরা ছিন্ন জঙ্গলের অগণন গাছের মতো নিজেদের অভ্যস্ত জীবিকা ও বাসস্থান থেকে উপড়ে এসে পড়ছেন শহরে। এদের আশ্রয় বা সুস্থ জীবিকা দেওয়া শহরের সমস্ত ব্যবস্থার অতীত। ফলে বহু শত প্রজন্ম ধরে প্রকৃতির নিয়মের মধ্যে থেকে প্রাকৃতিক সম্পদকে ব্যবহার করে একটি সভ্যতা গড়ে তুলেছিলেন যাঁরা, দেশবাসীর সেই বৃহদংশ হয়ে গিয়েছেন এক অতিরিক্ত বোঝা। বাজারের প্রয়োজনমতো যথেচ্ছ ব্যবহার করে ফেলে দেবার ‘ইউজ অ্যান্ড থ্রো’ সামগ্রী। এটা কোনও সভ্যতারই স্থায়ী চেহারা হতে পারে না।
যে আরাবল্লি পর্বতমালার পরিকল্পিত ধ্বংস আজ দেশের বহু মানুষকে উদ্বিগ্ন এবং উত্তাল করে তুলেছে, মহামান্য আদালত পর্যন্ত সেই ধ্বংস-প্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলার ক্ষেত্রে সাময়িক স্থগিতাদেশ দিয়েছেন, আমরা ভুলতে পারি না যে, সেই আরাবল্লিরই মত প্রাচীন, স্থিতিস্থাপক, অসংখ্য ভৌগোলিক সংস্থানকে দেশময় প্রায় নিঃশব্দে কেটে নিশ্চিহ্ন করে ফেলা হচ্ছে। আমাদের এই রাজ্যের বিশেষত পশ্চিমাঞ্চলে, পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া থেকে পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম অবধি যেসব টিলা-ডুংরি, পাহাড়, গাঁইতি-কোদাল এবং বিভিন্ন বিস্ফোরকের ঘায়ে উচ্ছিন্ন হয়ে গেছে তাদের সম্মিলিত সংখ্যা বা ওজন কত? একই অবস্থা উড়িষ্যা-ঝাড়খন্ড-বিহারের, অন্ধ্রপ্রদেশ-কেরলের। কোথায় তবে আমার দেশ? আমার ভূমি, নদী, অরণ্য, প্রাণীকুল? সবকিছু বাদ দিয়ে কী আমার পরিচয়? ‘দেশপ্রেম’ অর্থ শুধু ‘অপর’-কে ঘৃণা করা, নিজের ‘নীল সিন্ধুজলধৌত চরণতল অনিল বিকম্পিত শ্যামল অঞ্চল/ অম্বর চুম্বিত ভাল হিমাচল’ স্বদেশকে ব্যাকুল ভালবাসতে শেখা নয়? দেশ শুধু এক ব্যাপ্ত বাজার, যার প্রয়োজনে এই সুপ্রাচীন ভূমির প্রাকৃতিক সম্পদরাশি কেটে-কেটে বিক্রি করা হতে থাকবে?
এই ধীরগতিতে ধ্বংস করতে থাকা প্রাকৃতিক সম্পদসমূহের ওপরে ভিত্তি করেই মানুষের জীবনধারণের বুনিয়াদি প্রয়োজনীয় বস্তুগুলি উৎপন্ন হয়ে থাকে। সেই উৎপাদনই দেশের বৃহদংশ লোকের জীবিকা ছিল হাজার বছর ধরে। তার জন্য কোনও কেন্দ্রীভূত শাসনব্যবস্থা ছিল না। ক্ষমতা, পরিকল্পনা, বাজেট, রূপায়ণ এবং সেইসব সিদ্ধান্তের জন্য আরেকপ্রস্থ ক্ষমতাকেন্দ্র— কিছুরই প্রয়োজন হয়নি। যারা স্থানীয়ভাবে সমস্যা ও প্রয়োজন জানতেন, সেইমতো উৎপাদন করতেন, এই দেশের শত-শত স্থানীয় সমাজই মেধা ও পরিশ্রম দিয়ে এই কাজগুলো, তৎসম্পর্কিত সমস্যা ও তার সমাধানের ব্যবস্থা করত। সেভাবেই তৈরি হয়েছিল বৈচিত্রবহুল সুস্থায়ী শত-সহস্র স্থানীয় সংস্কৃতি।
এই প্রকৃতি কেউ তৈরি করেনি। বিজ্ঞানের অতি-জটিল, পরস্পর-সম্পৃক্ত অমোচনীয় নিয়মাবলির সম্মিলনে কোটি-কোটি বছর ধরে তা তৈরি হয়েছে। কোনও একদল লোকের ইচ্ছা বা লোভে একে ব্যবহার করার ভাবনা তাই চূড়ান্ত অবৈজ্ঞানিক আত্মধ্বংসী ভাবনা। এটাও নতুন কথা নয়। ছোট-বড় করে যতবার প্রকৃতির নিয়ম লঙ্ঘিত হয়েছে, প্রতিবার প্রত্যাঘাত এসেছে। স্বাভাবিক বিবেচনার মানুষ তা থেকে শিক্ষা নিয়ে পথ পরিবর্তন করে। অবিমৃষ্যকারী দাম্ভিক কোনও ক্ষমতা যদি সেই শিক্ষা নিতে অস্বীকৃত হয়, যদি আরও বড় স্পর্ধার দিকে যায়, প্রকৃতির স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়াও হবে ততখানিই ভয়ংকর। এবং তাকে আর ফেরানো যাবে না।

দেশময় পরিকীর্ণ ছোট-ছোট এইসব আরাবল্লির বিপদ আমাদের প্রত্যেকেরই মাথার ওপরে ঝুলছে। পাহাড়-নদী, পাথর-মোরাম, পায়ের তলার মাটি— সবকিছু কেটে তুলে বেচে দেওয়া কোনও জীবিকা হতে পারে না, যা কিনা আজ যে কোনও ধ্বংসাত্মক কাজের যুক্তি হিসেবে বলা হয়।
২০০৮ সালে জয়পুর জেলার একটি জলশিক্ষাকেন্দ্রে কিছুদিন পড়াচ্ছিলাম। ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ। সবচেয়ে নিকটবর্তী গ্রাম-কিশোরী। প্রায় দু-কিলোমিটার দূর। বিকেল তিনটেয় ক্লাস শেষ হলে হেঁটে হেঁটে কিশোরী যেতাম, নিতান্ত যাওয়ার জন্যই যাওয়া। হয়তো পাঁচ টাকার বাদামভাজা কিংবা একটা দেশলাই বাক্স কিনে ফিরে আসতাম। যাওয়ার সময়ে আমার বাঁ-দিকে পৃথিবীর শেষ পর্যন্ত ছড়ানো সর্ষেফুলের খেত। হলুদে-সবুজে ঝিলিক দেয়। কাঁচা সর্ষের তীক্ষ্ণ সুবাস নাক থেকে কপাল অবধি ঢুকে যাচ্ছে। রোদের তেজ কমে গেছে। সেই জনমানবশূন্য পথের বাঁ-দিকে একটানা চলেছে আরাবল্লি। শুকনো, রুক্ষ, এবড়োখেবড়ো অসমান। ঢালু উঠে গেছে ঝকঝকে নীল আকাশ পর্যন্ত। ঠিক যেখান থেকে মাটি ঢালু হয়ে ওঠা শুরু করেছে, সেটা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি। ‘ফুটহিলস’ যাকে বলে। হিমালয়ের মতো ঘন নরম জঙ্গলের পোষাকে ঢাকা নয়। দেখতে পাচ্ছি, ওর পায়ের পাতার ওপরে বিছোনো এই রাস্তাটা। কখনও কোথাও দু-একটা ঝুপড়ি। কাঠিকুঠি দিয়ে গাঁথা। যাদের এইসব খেত, তাদেরই হয়তো।
আজ ভাবছি ওই ঠাকুরদার মতো ছায়াময় শীর্ণ উচ্চতা থেকে একটা রাগী শুকনো হাত বেরিয়ে এসে ঠাস করে এক চড় দেয় যদি মাপতে আসা কোনও আস্পদ্ধার গালে?



