সদ্য মুক্তি পেয়েই আলোড়ন তুলেছে ‘অদম্য’। সুকান্ত ভট্টাচার্যর ‘দেশলাই কাঠি’ কবিতা অবলম্বনে, অপর্ণা সেন নিবেদিত রঞ্জন ঘোষের এই ছবিটি নির্মাণ থেকে প্রচার, সবেতেই অভিনব হয়ে উঠেছে। মূলধারার নানা ছক ভেঙে চলছে ‘অদম্য’-র জয়যাত্রা। পরিচালক রঞ্জন ঘোষের সঙ্গে কথোপকথনে পৃথ্বী বসু ও প্রিয়ক মিত্র।
এই বছর সুকান্ত ভট্টাচার্যর শতবর্ষ। ‘অদম্য’-র মূল ভিত্তি সুকান্ত ভট্টাচার্যর ‘দেশলাই কাঠি’ কবিতাটি। এই কবিতাটিকে চলচ্চিত্রায়িত করার ভাবনা এল কী করে?
সুকান্ত ভট্টাচার্যর ‘দেশলাই কাঠি’ কবিতাটার সঙ্গে ছোটবেলার একটা সংযোগ রয়েছে। কিছু কিছু কবিতা একরকমভাবে শৈশবের সঙ্গে জড়িয়ে যায় না, এটাও তেমনই। বাবা আমাকে আবৃত্তি করাতেন। স্কুলে প্রথম আবৃত্তি করেছিলাম, জীবনানন্দ দাশের ‘আবার আসিব ফিরে’। তারপর মঞ্চে যে দ্বিতীয় যে কবিতাটা আবৃত্তি করতে উঠেছিলাম, সেটা এই কবিতাটা। দু-লাইন আবৃত্তি করে আমি ভুলে যাই বাকি কবিতাটা, মঞ্চ থেকে নেমে আসি কাঁদতে কাঁদতে। সেই থেকে এই কবিতাটার সঙ্গে একটা ব্যর্থতাবোধ জড়িয়ে যায়। পরে আরও বহু কবিতা আবৃত্তি করেছি। কিন্তু এই কবিতাটা কোনওদিন ভুলতে পারিনি।
২০১৪ সালে আমার ‘হৃদমাঝারে’ মুক্তি পায়। ভাবতে থাকি, আর কী ছবি করা যেতে পারে। সেই সময় থেকে দেশের পরিস্থিতিও একটু একটু করে বদলাচ্ছিল। একটা ভয়ের আবহ চারদিকে ছড়িয়ে যাচ্ছিল। সেই সময় মাথায় এসেছিল, একটি একক চরিত্র নিয়ে যদি কোনও ছবি করা যায়। ছোটবেলা থেকেই আমি ভগৎ সিংয়ের আদর্শে অনুপ্রাণিত। আমার সেই রাজনৈতিক প্রেক্ষিতে মনে হতে থাকে, ভগৎ সিং সেই সময় ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়েছিলেন, আজ তিনি থাকলে কাদের বিরুদ্ধে লড়তেন? আরও মনে হয়, সুকান্ত ভট্টাচার্য ২১ বছর বয়সে মারা যান, তার আগেই তিনি ‘দেশলাই কাঠি’ কবিতাটি লিখেছিলেন। এখন তিনি থাকলে তিনি কি আর এমন কবিতা লিখতে পারতেন? এই সমস্ত ভাবনা এসে জড়ো হয় একসঙ্গে। সেইসময় সিগারেটও খেতে শুরু করি। তখন নানা পরিস্থিতিতে মনে হয়েছিল, একবাক্স দেশলাই কাঠি থেকে একটা দেশলাই কাঠিকে বের করে নিলেই তা একক চরিত্র হয়ে ওঠে। একটা দেশলাই কাঠি একটা বাড়ি জ্বালিয়ে দিতে পারে, ভস্মীভূত করে দিতে পারে প্রাসাদ, তাহলে একবাক্স দেশলাই কী ঘটাতে পারে?
এই সব ভাবনাই ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক ভিত্তিভূমিটা জোরদার হচ্ছিল না। এরপর ২০১৯ সালের শেষে শুরু হয় সিএএ-এনআরসি আন্দোলন। তারপরেই লকডাউন। পরিযায়ী শ্রমিকদের দুর্দশাটা গোটা দেশের সামনে প্রকট হয়ে ওঠে। তখন মনে হয়, ভোটের সময় যারা আমাদের রাজা বানায়, নিজেরা ভোটভিক্ষা করে, তারাই ভোট ফুরলে রাজা হয়ে যায়, ভিক্ষাপাত্র চলে আসে আমাদের হাতে। এইখান থেকেই আমার গল্পটার সূত্রপাত।
আরও পড়ুন: গ্রামজীবন আর সমকামিতাকে শৈল্পিকভাবে তুলে ধরে ‘সবর বন্দা’! লিখছেন ভাস্কর মজুমদার…
এরপর আমার ‘মহিষাসুরমর্দ্দিনী’ মুক্তি পায়। তার পরে পরেই, আরিয়ুন, যে আমার দীর্ঘদিনের সহকারী, যে ‘অদম্য’-র পলাশ, তার সঙ্গে আমরা যাই সুন্দরবনে। সুন্দরবনের ওই আদিম, বন্য প্রকৃতি, ম্যানগ্রোভের ওই আলোছায়া দেখে আমার মনে হয়, এখানে একটা রাজনৈতিক থ্রিলারের পটভূমি তৈরি হতে পারে। তখনই এই ছবির যে মূল চরিত্র পলাশ, তার গল্পটা বোনা শুরু হয়। মনে হয়, একটি ছেলে, যে পলাতক, সে এই অরণ্যের মধ্যে এসে আছে। তারপর তার সঙ্গে কী ঘটছে, এইটাই ছবির ভাবনার মূল চাবিকাঠি।

কবিতা থেকে কি চিত্রনাট্য করা কতটা চ্যালেঞ্জিং?
কবিতা থেকে চিত্রনাট্য করা সত্যিই কঠিন। কবিতা তো ভাব প্রকাশ করছে, সরাসরি তো কোনও প্লট উঠে আসছে না। বিশেষ করে, এমন একটি জ্বালাময়ী রাজনৈতিক কবিতাকে চিত্রনাট্যে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে খুবই চ্যালেঞ্জিং হয়ে যায় রূপকধর্মিতাকে কবিতার অন্তরঙ্গ থেকে চলচ্চিত্রের বহিরঙ্গে নিয়ে আসার কাজটা। গতে বাঁধা রাজনৈতিক ছবি করতে চাইনি, করতে পারবও না তেমন ছবি। ফলে কীভাবে ছবিটা করব, কীভাবে চিত্রনাট্য তৈরি হবে, একথা ভাবতে, এই পরিকল্পনাটা করতে কিন্তু সময় লেগেছে। সব মিলিয়ে প্রায় পাঁচ-ছ’বছরের ভাবনা ও শ্রম আছে এই ছবিটার নেপথ্যে।
এর আগে আপনি ‘মহিষাসুরমর্দ্দিনী’ বানিয়েছেন, যা রাজনৈতিক ছবি। ‘অদম্য’-ও সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক ছবি। এই সময় দাঁড়িয়ে রাজনৈতিক ছবি করাটা কতটা কঠিন মনে হয়?
সম্ভবত, এই কারণেই আমি প্রথমদিকে কোনও প্রযোজক পাইনি। আমাকে হয়তো মুখে বলা হয়েছে, একক চরিত্রের ছবি নিয়ে দর্শক ততটা আগ্রহী হবে না, নতুন অভিনেতাকে কে দেখবে ইত্যাদি। কিন্তু ভেতরের কারণ হয়তো এটাই ছিল।
কিন্তু আমি এই ছবিটা করতামই। মনের মধ্যে গেঁথে ছিল ছবিটা। এই মুহূর্তে ভারতের রাজনৈতিক ছবি মানেই প্রোপাগান্ডা। কোনও একটা পক্ষের হয়ে কথা বলা। আমরা কিন্তু দল-নির্বিশেষে, পক্ষ-নির্বিশেষে একটা ব্যবস্থাকে কাঠগড়ায় তুলছি। এখন একটা সিস্টেম তো কখনওই চাইবে না, তাকে এভাবে বিদ্ধ করা হোক। তাই কাজটা কঠিন ছিল তো বটেই। কিন্তু কঠিন বলেই থেমে থাকাও তো যায় না। ছ’জন মিলে তাই আঁটঘাট বেঁধে নেমে পড়েছিলাম ছবিটা করতে।

আপনি ছবির শুরুতে অনেক বিখ্যাত পরিচালকের প্রতিক্রিয়া রেখেছেন। যদি একটু বলেন, কেমন প্রতিক্রিয়া পেয়েছেন?
অপর্ণা সেন, আদুর গোপালকৃষ্ণন, শাবানা আজমি এঁদের সকলের থেকেই অবিশ্বাস্য সব প্রতিক্রিয়া পেয়েছি। ডোমিনিক ভেলেনস্কি, যিনি কিনা কান চলচ্চিত্র উৎসবের ডিরেক্টরস ফোর্টনাইটের ফ্যাক্টরি প্রোগ্রামের কর্ণধার, তিনি এই ছবিটি দেখেছিলেন ২০২৫-এর গোড়ার দিকে। তিনি বলেছিলেন, শেখর কাপুরের ‘ব্যান্ডিট কুইন’-এর পর এটাই ওঁর দেখা সবচেয়ে সাহসী রাজনৈতিক ছবি। উনি এটাও বলেছিলেন, কোনও চলচ্চিত্র উৎসব এই ছবিকে জায়গা দিতে চাইবে না। বার্লিনেলের এবারের অবস্থান, যে অবস্থানের জন্য অরুন্ধতী রায় সরে দাঁড়ালেন, সেটা থেকেই স্পষ্ট হয় রাজনৈতিক শিল্প নিয়ে অনীহাটা। কিন্তু এই মুহূর্তে আবিশ্ব যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি, তাতে শিল্পকে রাজনৈতিক হতেই হবে। শিল্পের দ্বিতীয় কোনও রাস্তা নেই।

ছ’জন মিলে আপনারা ছবিটা বানালেন। আরিয়ুন, আপনার নায়ক, নতুন। আপনার চিত্রগ্রাহক অর্কপ্রভ দাসের এটা প্রথম কাজ। এইভাবে একটা ছবি বানিয়ে ফেলা তো সহজ নয়। একটু পদ্ধতিটা নিয়ে যদি বলেন।
পন্ডিচেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ফিল্মমেকার ইন রেসিডেন্স’ বলে একটি প্রোগ্রাম আছে। সেই প্রোগ্রামে আমি আর আরিয়ুন গিয়েছিলাম। সেখানে একমাস ছিলাম আমরা। সেখানে একটা চিত্রনাট্য আমাদের লিখতে হত। সেখানে বসেই এই চিত্রনাট্যটা আমাদের লেখা। তারপর প্রযোজক পাওয়া নিয়ে লড়াই শুরু। প্রযোজক যখন পাই না, তখন আরিয়ুন আমাকে বলে বিভিন্ন অভিনেতার কথা। কিন্তু সুন্দরবনে যেখানে শুটিং হয়েছে, সেখানে কাউকে থাকার জায়গাই দিতে পারতাম না। আমরা নিজেরা মেঝেতে শুতাম, পুকুরে স্নান করতাম। শ্রম আইন মেনে কাজ করতে হবে ওখানে, আর শ্রম আইন মেনে তো ফেডারেশনের সঙ্গে কাজ করা যাবে না। তখনই ঠিক হল, বন্ধুবান্ধব জুটিয়ে স্বাধীনভাবে যদি ছবিটা বানানো যায়।
আরিয়ুন আমাকে আট-ন’বছর ধরে অ্যাসিস্ট করছে। ‘মহিষাসুরমর্দ্দিনী’-তে একটা ছোট্ট চরিত্র করেছিল। ও আমার কাজের পদ্ধতিটা জানে। এবার অর্কপ্রভর সঙ্গে আলাপ হল। ও স্টিল ফোটোগ্রাফার, উটি থেকে একটা কোর্স করেছিল। কিন্তু পেশাদারি কোনও অভিজ্ঞতাই ছিল না। কিন্তু ওর ফ্রেমিং, কম্পোজিশন আমার ভাল লেগেছিল। আমাদের বন্ধু আর্য এসে জুড়ে গেল। আরও দু’জন জুটে গেল, যারা ইন্ডাস্ট্রিতে কখনও কাজই করেনি। এই ছ’জনের দলটা মিলে ছবিটা বানিয়ে ফেললাম। প্রত্যেকের অবিশ্বাস্য পরিশ্রম, উদ্দীপনা ছিল। আরিয়ুন অভিনয় করেছে, অ্যাসিস্ট করেছে আমাকে, কস্টিউম দেখেছে, অ্যাকশন সিকোয়েন্সের কোরিওগ্রাফি ওর করা, গান ওর গাওয়া। অর্কও আর্ট, কস্টিউম দেখেছে, আমি প্রোডাকশন দেখেছি, সবাই দশটা করে কাজ করেছি।

কতদিন লেগেছে শুট করতে?
যেহেতু স্বাধীন ছবি, বারোদিন বা পনেরোদিনে ছবি শেষ করতে হবে, এরকম কোনও চাপ তো ছিল না। আমরা চারমাস ধরে ধাপে ধাপে শুটিং করেছি। কাজেই ঠিক কতদিন সময় লেগেছে, ওভাবে বলতে পারব না। তবে, সময় নিয়ে, ধীরেসুস্থে শুটিং করেছি। ছবিতে কোনও কৃত্রিম আলো ব্যবহার হয়নি, রাতের দৃশ্যেও। সন্ধে বা রাতে আমরা কি সত্যিই ততটা স্পষ্ট দেখি? একটা অবয়ব ফুটে ওঠে। সেই ফিলটা রাখতে চেয়েছি। সন্ধে নামার পরের সময়টা, যেটাকে বলে ব্লু আওয়ার, তাতে আমরা প্রচুর শট নিয়েছি। তার জন্য সারাদিন ধরে প্রস্তুতি নিয়েছি। রিহার্সাল, স্টেজিং, ব্লকিং করে হয়তো পনেরো মিনিটে শটটা নিয়েছি।
স্থানীয় মানুষের সাহায্য কীভাবে পেয়েছেন?
বলে শেষ হবে না। আমরা ছিলাম আর্যদের বাড়িতে। প্রথমে গ্রামের লোক জিজ্ঞেস করেছিল কী হচ্ছে? ছবি হচ্ছে শুনে কেউ বিশ্বাস করেনি। চেনা নায়ক নেই, নায়িকা নেই, সরঞ্জাম কম। পরে ইউটিউব ভিডিও বলায় বিশ্বাস করেছিল। আমরা মেঝেতে শুতাম, একদিন বাড়ির রান্নাঘরে সাপ ঢুকে পড়ল। আমাকে বাকিরা বলল, তুমি অন্তত বিছানায় শোও। তুমি সাপের ছোবল খেলে আর ছবিটাই হবে না। এমন নানা মজা করতে করতে কাজ করেছি। যে বাড়িতে ছিলাম, সেখানে একজন একটা টুলে বসে টিভি দেখতেন। ওঁকে বুঝিয়ে, ওঁর টুলটা নিয়ে আমরা ট্রাইপড বানালাম আমাদের ক্যামেরার। আমাদের ট্রলার লাগত। সুন্দরবন জেলেদের জায়গা। ওদের থেকে ট্রলার চেয়েছিলাম। তাই নিয়ে গ্রামে রীতিমতো সালিশি সভা বসল। আমরাও গিয়েছিলাম। সব বয়স্করা সায় দিলেন, বললেন, আমাদের গ্রাম নিয়ে বই হচ্ছে। অবশ্যই ট্রলার দেব আমরা। ওখানকার চায়ের দোকানে কোনও সেট আপ ছাড়া শুটিং করেছি। অসম্ভব সহযোগিতা করেছেন ওখানকার মানুষ।
আমি চাই থিয়েট্রিক্যাল রানটা হয়ে যাক আগে। কারণ আমি যেভাবেই ছবি বানাই, এটা আমার অধিকার। আমার অধিকারে আমি এক সপ্তাহ টিকি, দু’সপ্তাহ টিকি, আমার ব্যাপার। তারপর আমি ভাবব, ছবিটা নিয়ে মানুষের কাছে কীভাবে পৌঁছে যাওয়া যায়, যেভাবে প্রদীপ্ত ভট্টাচাৰ্য ‘নধরের ভেলা’ নিয়ে পৌঁছে যাচ্ছেন। কিন্তু আমার অধিকারটা আমি ছেড়েও দেব না।
গ্রামের মানুষকে কি ছবিটা দেখানোর কোনও পরিকল্পনা রয়েছে?
আমাদের প্রথম স্ক্রিনিং ওখানেই হয়েছে। সেক্ষেত্রে আমাকে কিছু করতেও হয়নি। আমার ইচ্ছে ছিল, টিজার লঞ্চ সুন্দরবনে করার। সেটা আমরা করেছি। ওখানে কোনও ক্লাব নেই, কাফে নেই, চায়ের দোকানগুলোতেই আড্ডা বসে, বাজে আলোচনা নয়, রীতিমতো রাজনৈতিক আলোচনা হয়। সেখানে টিভি দেখেন ওঁরা। সেইসব দোকানে ল্যাপটপ নিয়ে ঘুরে ঘুরে আমরা টিজার দেখিয়েছি। তখনই ওঁরা ছবিটা দেখতে আগ্রহী হয়েছিলেন। তাছাড়া ওখানে শুটিং করতে গিয়ে কলেজপড়ুয়া ছেলেমেয়েদের সঙ্গে আলাপ হয়েছিল। তারা কাকদ্বীপের সুন্দরবন মহাবিদ্যালয়ে নিজেরাই আয়োজন করেছিল ছবিটার প্রদর্শনীর। তারা দাবি করেছিল, আগে আমরা দেখব, তারপর কলকাতার মানুষ দেখবে। তারাই পর্দা খাটিয়ে দেখিয়েছে।
আমি চাই থিয়েট্রিক্যাল রানটা হয়ে যাক আগে। কারণ আমি যেভাবেই ছবি বানাই, এটা আমার অধিকার। আমার অধিকারে আমি এক সপ্তাহ টিকি, দু’সপ্তাহ টিকি, আমার ব্যাপার। তারপর আমি ভাবব, ছবিটা নিয়ে মানুষের কাছে কীভাবে পৌঁছে যাওয়া যায়, যেভাবে প্রদীপ্ত ভট্টাচাৰ্য ‘নধরের ভেলা’ নিয়ে পৌঁছে যাচ্ছেন। কিন্তু আমার অধিকারটা আমি ছেড়েও দেব না।
আপনার এই ছবিটা বানানোর কথা শুনে গৌতম ঘোষের ‘মা ভূম’ বানানোর কথা মনে পড়ে যাচ্ছিল…
এখানে একটা মজার কথা বলি। গৌতমদা এই ছবিটা দেখে বলেছিলেন, এটা তো আমার সাবজেক্ট। এই আদিবাসী জনজাতির রাজনীতি, অভ্যুত্থান ইত্যাদি। আমি বলেছিলাম, তাহলে কি তোমার বিষয় নিয়ে তুমিই কেবল ছবি বানাবে? যা হোক, মনে আছে, গৌতমদা শিশুর মতো হাততালি দিয়ে উঠেছিলেন ছবিটা দেখে। বলেছিলেন, আমার ষাট-সত্তর দশকের বন্ধুদের কথা মনে পড়ছে। উনি বলেছেন, ছবিটা নিয়ে বেরিয়ে পড়তে। আমার মাথায় গেঁথে রয়েছে কথাটা।
এই ছবিটার জন্য আঠারো বছরের ওপরের দর্শকদের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে কেবল!
এইটা কিন্তু মজার! সুকান্ত ভট্টাচাৰ্য নিজের কবিতায় তারুণ্যকে এতটা প্রশ্রয় দিয়েছেন। তিনি যখন কবিতাটা লিখেছেন, তখনও আঠারো হননি। ভগৎ সিং তেইশ বছর বয়সে শহিদ হয়েছিলেন। এটা আসলে ভারতীয় সার্কাসেরই অঙ্গ।
এই ছবিটার মধ্যে একটা ‘অ্যাজিটেশন’ আছে। দৃশ্যগতভাবে সেটাকে আয়ত্ত করলেন কী করে?
আমি একটা র-নেস ধরতে চেয়েছি। তার জন্য নিজের কাছে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছি। যেমন ক্লাইম্যাক্সে টর্চের আলোর যে অভিঘাত, সেটার জন্য সত্যিই টর্চ কিনে, সারাদিন ধরে চার্জ দিয়ে শুটিং করেছিলাম। ছবির মধ্যে যেন পুঁজির ছাপ না পাওয়া যায়, সেই চেষ্টাটা করেছিলাম। গেরিলা পদ্ধতিতে ছবিটা করতে চেয়েছিলাম। পরিচিত মুখ না নিয়ে এই যে আরিয়ুনকে নেওয়া, কারণ ওর কোনও ব্যাগেজ নেই। ওর মধ্যে চরিত্রটা মিশে গেছে।
প্রচারকৌশলেও কি সেই গেরিলা পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছে?
শ্যাম বেনেগাল একবার একটি মাস্টারক্লাসে বলেছিলেন, তোমার ছবিই তোমার পাবলিসিটির সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। আমরা এই ছবিটা সেভাবেই নিয়ে গেছি মানুষের কাছে। ঢক্কানিনাদ না করেই।




