হিয়া টুপটাপ, জিয়া নস্টাল: পর্ব ১৯
‘পুজোসংখ্যা হাতে পাবার পরের যে-রাত, রাত মানে বেশ নিশুতিই, বাবা-মা ঘুমিয়ে পড়েছে ততক্ষণে, সেই রাতে আমি আবিষ্কার করতাম প্রথম উপন্যাসের প্রথম পাতাটিকে।’ পুজোর রোমাঞ্চ।
‘পুজোসংখ্যা হাতে পাবার পরের যে-রাত, রাত মানে বেশ নিশুতিই, বাবা-মা ঘুমিয়ে পড়েছে ততক্ষণে, সেই রাতে আমি আবিষ্কার করতাম প্রথম উপন্যাসের প্রথম পাতাটিকে।’ পুজোর রোমাঞ্চ।

‘কখনও-কখনও অনেক চরিত্র বসে কথা বলছে, কিন্তু ক্যামেরা সংলাপকারীর মুখে কিছুতে কাট করে আসে না, ঠায় একই দৃষ্টিকোণ থেকে পুরো দৃশ্যটা দ্যাখে। যেন সে বাড়ির আত্মা, সাক্ষীমাত্র, অধিক কৌতূহলী নয়। ছবিটাও তা-ই, সময়ের সাক্ষী।’ সম্পূর্ণ নায়কহীন ছবি।

জুতো পায়ে দিয়ে আকাশে উড়তে হবে অ্যান্টনিকে, টমের উৎসাহের শেষ নেই! বার বার বলেই চলেছে, এটা করলেই নাকি স্নেহা ইমপ্রেস হয়ে যাবে। আর অ্যান্টনি ফেমাস হয়ে গেলে তো কথাই নেই! কিন্তু অ্যান্টনি কী ভাবছে? শায়েরিকে কি সে ভুলে যেতে পেরেছ?
প্রবাদপ্রতিম শিল্পী সোমনাথ হোরের জন্মশতবর্ষ রেট্রোস্পেকটিভ; দশানন রাবণের বলিউডি নায়ক-রূপে বিনির্মাণ; শুধুমাত্র সাদা-কালোয় একটি গোষ্ঠী প্রদর্শনী। মণ্ডপে শুধু নয়, শহরের গ্যালারি এবং শিল্পকলাকেন্দ্রগুলিতেও থাকছে বৈচিত্রেরই জয়জয়কার।

‘তুমি ফুল তুলেছিলে, তারই দাগ রয়েছে বাগানে।/ যেন অপরাধচিহ্ন, যেন ব্যর্থ অভিমানভাষা।/ যে-মেয়েটি অন্ধ, সেও বিরহের কিছু গান জানে।/ তাকে ফুল দাও। আর কেড়ে নাও দেখার পিপাসা।’ নতুন কবিতা।
‘প্রতিশোধের শেষ আছে? আমি তো দেখতে পাই না। জেনারেশনের পর জেনেরেশন ধরে চলছে প্রতিশোধ। যারা প্রতিশোধে বিশ্বাসী তাদের মোটো, ‘আমার এক চোখ কানা করলে আমি তোর দুই চোখ কানা করে দেব!’ শুনতে দারুণ লাগলেও গল্প এখানে শেষ হয় না যে!’
‘মাঝেমধ্যেই শিল্পীদের ধরাকে সরা জ্ঞান করা স্পনসর বা উদ্ধত পৃষ্ঠপোষকদের দিক থেকে নানাবিধ ঝামেলায় পড়তে হয়, যাঁদের আসলে শিল্পের কদর করার মতো রসবোধই নেই, বা থাকলেও তা খুবই সামান্য। যে সব শিল্পীদের নিদেনপক্ষে কয়েক বছরও ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাঁদের সবার মুখেই যে এ বিষয়ে ভয়ানক রোমহর্ষক সব কাহিনী শোনা যাবে, তা নিয়ে আমার কোনো সন্দেহই নেই।’
‘তেলে-ধোঁয়ায় পিচ-কালো হয়ে যাওয়া ঠেলাগাড়িতে, হাঁ-হাঁ করে জ্বলতে থাকা মিনি স্টোভের উপর কুচকুচে কালো একটা কড়াইতে ভাজা এবং সঙ্গে-সঙ্গে বিক্রি হয়ে যাওয়া ডালবড়া। আমাদের বালিগঞ্জ পাড়ায় বিকেল নামলেই ডালবড়ার ঠেলাগাড়ি মোড়ে-মোড়ে দেখা যায়, বিশেষত বাজার অঞ্চলে; লেক মার্কেট, গড়িয়াহাট, বালিগঞ্জ স্টেশন, যোধপুর-যাদবপুরে।’ আসল খেলা কিন্তু তার চাটনিতে।

‘একটা লোক বুধবার রাত্রে নেচে গেয়ে আলগা রসিকতা করে, বেস্পতিবার সকাল দশটায় পৃথিবীর সর্বাধিক জরুরি ও গভীর সন্দর্ভ পেশ করতে পারবে না কেন? এবং, উল্টোদিকে, যে বুধবার রাশভারি থিসিস ফলাবে সে বেস্পতিবার নিজ বন্ধু-সার্কলে বাঁদরনেত্য করতে পারবে না কেন?’ স্বাধীনতার প্রশ্ন।

আজব এক জুতো তৈরি করেছেন ডক্টর ঘোষ। পায়ে দিলেই নাকি দশ মিনিটে বেঙ্গালুরুর এ-প্রান্ত থেকে ও-প্রান্ত যাওয়া যায়! জ্যামে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার দিনও শেষ। কিন্তু এই জুতো পায়ে দিয়ে পরীক্ষা করার লোক কে? বেচারা সেই অ্যান্টনি!

মাঝে মাঝে ঠাহর হয়, সমাপতন বোধ হয় সত্য নয়। বরং পূর্বনির্ধারিত শব্দটি বেশি বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করে। অস্ট্রেলিয়ার পার্থ নিবাসী চার্লস সাহেব, লন্ডনের অক্সফোর্ড স্ট্রিট থেকে ১ পাউন্ড দিয়ে রবীন্দ্রনাথের ইংরেজি বই কিনলেন এবং যাতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্বহস্তে লেখা রয়েছে কবিতা, এবং সেই বই কালে কালে হাতে এসে পড়ল চালর্স সাহেবের প্রতিবেশী এক বাঙালির। এবং একশো বছর আগের প্রকাশিত বই দেখার সৌভাগ্য হল কলকাতার এক বাঙালির। সূ-দূর যোগাযোগ একেই বলে!

‘তিনখানি প্রাণী আপাতত জানা-অজানা ক্ষত নিয়ে এগোচ্ছি অনির্দিষ্ট দিগন্তের দিকে মুখ করে। রাস্তার ধারে একটা ঘর পড়ল অনেকটা হাঁটার পর। পরিত্যক্ত। দেওয়ালে পলেস্তারা খসে গিয়ে লুপ্ত এক দেশের ম্যাপ। পথিকের কথা ভেবে কেউ বানিয়েছিল।’ নিরুদ্দেশ যাত্রা।
This Website comprises copyrighted materials. You may not copy, distribute, reuse, publish or use the content, images, audio and video or any part of them in any way whatsoever.
©2026 Copyright: Vision3 Global Pvt. Ltd.