
এক শালিক: পর্ব ২২
সত্যি কি? যা আমরা ছুঁয়ে-দেখে-বুঝে-জেগে যাপন করি, শুধুমাত্র সেটুকুই কি সত্যি, বাস্তব, জীবন, রিয়্যালিটি? মানুষের মনের গভীর কোণে কোন সত্য লুকিয়ে আছে, কোনটা আসল, কোনটাই বা কল্পনা, তা বিচার করার অধিকার কার?

সত্যি কি? যা আমরা ছুঁয়ে-দেখে-বুঝে-জেগে যাপন করি, শুধুমাত্র সেটুকুই কি সত্যি, বাস্তব, জীবন, রিয়্যালিটি? মানুষের মনের গভীর কোণে কোন সত্য লুকিয়ে আছে, কোনটা আসল, কোনটাই বা কল্পনা, তা বিচার করার অধিকার কার?

গল্পে আলাদীন প্রদীপের দৈত্য মনোমত কাজ করতে অক্ষম। তিন বার ফেল হওয়ার পর আলাদীনের মায়ের ডিমেনশিয়া সারিয়ে দিতে পারে বটে, কিন্তু চিরদিনের মতো দৈত্যগিরি হারায়। আর গানে বলা হল, একজন সত্যিকারের আনন্দিত লোককে কিছুতেই কেন বাগে আনা যাবে না।

প্রতিবাদ করার সময়ে ব্যক্তির অন্তত একটা সত্তার উড়ান হয়। আমি যে নশ্বর ভয়গুলোকে পেরিয়ে শুধু স্বাধীনতার খাতিরে নিজের অস্তিত্বটাকেই বিপন্ন করে ফেলতে পারলাম, ‘যা হবে হোক গে, আজ আমি নিজস্ব চিৎকার করবই’-এর তোড়ে মনটাকে যে জুড়ে দিতে পারলাম একখান সপাট জ্যা-নিক্ষিপ্ত শরে, এতখানি বেপরোয়া জুয়া যে আমি খেললাম রোজ না মরে অন্তত একবার মরব’খন বলে— তার মধ্যে একটা মনুষ্যত্বের উচ্ছ্বাস রয়েছে, একটা বৃহৎ জয়।

জীবন নানাবিধ ধাঁধার বাণ্ডিল বিশেষ। কিছু ধাঁধাকে দো-ফাঁদও বলা যেতে পারে। সম্প্রতি একটি সমীক্ষা বলছে, হাসপাতালের আইসিইউ-তে এমন সংক্রমণ হয়, যা থেকে মৃত্যু হতে পারে। ব্যবসায়ী যদি নিজের শরীরের দিকে দৃকপাত না করে টাকা বানানোর কৌশলে পারদর্শী হয়, তবে সে শিল্পীর মতো মহৎ নয়। প্রভূত দোলাচলের মুখোমুখি অহরহ এই জীবন।

‘কখনও-কখনও অনেক চরিত্র বসে কথা বলছে, কিন্তু ক্যামেরা সংলাপকারীর মুখে কিছুতে কাট করে আসে না, ঠায় একই দৃষ্টিকোণ থেকে পুরো দৃশ্যটা দ্যাখে। যেন সে বাড়ির আত্মা, সাক্ষীমাত্র, অধিক কৌতূহলী নয়। ছবিটাও তা-ই, সময়ের সাক্ষী।’ সম্পূর্ণ নায়কহীন ছবি।

‘একটা লোক বুধবার রাত্রে নেচে গেয়ে আলগা রসিকতা করে, বেস্পতিবার সকাল দশটায় পৃথিবীর সর্বাধিক জরুরি ও গভীর সন্দর্ভ পেশ করতে পারবে না কেন? এবং, উল্টোদিকে, যে বুধবার রাশভারি থিসিস ফলাবে সে বেস্পতিবার নিজ বন্ধু-সার্কলে বাঁদরনেত্য করতে পারবে না কেন?’ স্বাধীনতার প্রশ্ন।

‘সংলাপ শোনা যায়, ‘সার্জারি ইজ দ্য নিউ সেক্স’, এবং গল্পের কেন্দ্রে যে যুগল, তারা পারফর্মিং আর্টিস্ট, নারীটি রিমোটের সাহায্যে পুরুষের পেট কেটে ফাঁক করে এবং কোনও একটি প্রত্যঙ্গ বার করে এনে দর্শকদের দেখায়।’ ভাবী পৃথিবীর গল্প।

মেটার চ্যাটবট ‘ব্লেন্ডারবট ৩’ – যাকে বলা যায় ডিজিটাল টিয়াপাখি – মেটা-মালিক মার্ক জাকারবার্গকেই মহা বিপাকে ফেলে দিয়েছিল, তাঁর কোম্পানি কর্মীদের এক্সপ্লয়েট করা হয়, এই বলে। মানুষের সৃষ্টি এ-আই কি একদিন মানুষকে ছাপিয়ে যাবে – এই নিয়ে আজকের পর্ব।
‘খেলা এমনিতেই চির-জনপ্রিয়, তার গতি আছে স্পষ্ট ফলাফল আছে তারকাদের কেরদানি আছে, আর প্রধানত রাজনীতিহীন বলে তা আজকের সর্বকুচুটে যুগে একটা প্রকাণ্ড হাঁফ-ছাড়ার ময়দানও বটে। তাই লোকে ক্রিকেট ফুটবল দ্যাখে, পাবলিসিটি করতে পারলে কবাডি, অলিম্পিক চললে রুটি-সব্জি খেতে খেতে ডাইভিংও, কিংবা কমনওয়েলথে স্কোয়াশ। এমনিতে সারাদিন একটা মুহূর্তও সে স্রেফ দেওয়ালের দিকে তাকিয়ে বসে থাকে না, পার্কের দিকে চেয়ে ব্রেনতরঙ্গ বাজায় না।’

‘ছবিটি গোটা সময় শুধু যৌনতা বিষয়ে কথা বলে না, মা-সন্তানের সম্পর্ক নিয়েও বলে (মনে রাখতে হবে, যৌনকর্মীটি মহিলার ছেলের বয়সি), … কিন্তু এসব সহ-প্লট ছাড়িয়ে ও পেরিয়ে, ছবিটা শেষ অবধি বলে, তোমার জীবনের প্রার্থিত আনন্দ নিয়ে তুমি লজ্জিত হয়ো না, বরং যেভাবে পারো (অন্যকে কষ্ট না দিয়ে) তা জোগাড় করো।’ জীবনের শর্ত।

‘ গণতন্ত্রকে যে উদার হতে হয়, রিফ্লেক্স-অ্যাকশনের ঊর্ধ্বে উঠে প্রসারিত হৃদয়বৃত্তি অনুশীলন করতে হয়, বিরোধকে অত্যাচার দিয়ে নয়— যুক্তি ও সহিষ্ণুতা দিয়ে মোকাবিলা করতে হয়, এসব ধারণা এদেশে ন্যাকা আঁতেল উদ্ভট ধোঁয়াটে। তাহলে এ-ভূখণ্ডের চিহ্ন কিঞ্চিৎ উদাসীন সিংহ হলে, তাতে তো সত্যের অল্প অপমান। তাদের তো খান্ডার থাবড়াময় হতেই হবে।’

সৌরভ গাঙ্গুলি, এমন একজন খেলোয়াড়, যাঁর সম্পর্কে কথা বলতে গেলে কেউ তাঁর বিশেষ শট বা ফিল্ডিং সাজানোর কথা বলে না। বলে তাঁর অ্যাটিটিউড-এর কথা, তাঁর সাহসের কথা, তাঁর জেদের কথা, তাঁর কামব্যাকের কথা। এখানেই সৌরভের জয়। ক্রিকেট তাঁকে নিজস্ব গণ্ডিতে বেঁধে রাখতে পারেনি। সৌরভ কেবল ক্রিকেটের একটা পার্ট হয়ে থেকে যাননি, বরং ক্রিকেট তাঁর জীবনের একটা অঙ্গ হিসেবে রয়ে গেছে।
This Website comprises copyrighted materials. You may not copy, distribute, reuse, publish or use the content, images, audio and video or any part of them in any way whatsoever.
©2026 Copyright: Vision3 Global Pvt. Ltd.