
মেঘে মেঘে বেলা : পর্ব ৭
পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ মনে করে মেয়েরা জন্মগতভাবে কাস্টমার কেয়ার এগজিকিউটিভ। প্রত্যেক প্রশ্নের উত্তর দেওয়া, প্রত্যেক সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা করা, প্রত্যেক কাজের কারণ জানানো— তাদের ফুলটাইম চাকরির অঙ্গ।

পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ মনে করে মেয়েরা জন্মগতভাবে কাস্টমার কেয়ার এগজিকিউটিভ। প্রত্যেক প্রশ্নের উত্তর দেওয়া, প্রত্যেক সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা করা, প্রত্যেক কাজের কারণ জানানো— তাদের ফুলটাইম চাকরির অঙ্গ।

‘ঠাকুর্মা মেয়ে সন্তানদের তুলনায় ছেলে সন্তানদের বেশি খাতির করছেন। নাতনিদের চেয়ে নাতিদের খাতির বেশি! এটা তো সবসময়েই দেখেছি। মাছের লেজাটা, ছোট টুকরোগুলো সব মেয়েদের। টানাটানির সংসার হলেও, আম আসত ঝুড়ি ভরা, পচা-টচা দাগি আমগুলো মেয়েদের।’

‘জীবৎকালে কম মানুষকে নিয়েই মিথ তৈরি হয়, তাও আবার বিদেশের মাটিতে। সাহেবরাই বলে নানা গল্প। অথচ এই তো সেদিন কে পি সি রং সাইডে গাড়ি নিয়ে ঢুকে পড়েছিলেন, এত কড়া ট্রাফিক আইন, কিন্তু যেই উনি কাচ নামিয়ে বললেন, ‘আই অ্যাম কে পি সি’, অমনি পুলিশ স্যালুট দিয়ে ছেড়ে দিল।’

‘সেই কবে ১৯৭৪ সালে তমলুকে শ্যামলকান্তিদের কবিসম্মেলনে, তুষারকান্তি ঘোষকে সে-কথা বলেছিলাম, আর এটা ১৯৮৩ সাল! হতবাক হয়ে গেলাম আমি। এমন মানুষই তো পারেন, চার্চিলের ঠোঁট থেকে চুরুট টেনে নিতে!’

‘ওরা আমাদের কয়েকজনকে, ওদের ড্রেজারে নিয়ে গিয়েছিল। যেখানে গঙ্গা থেকে পলিমাটি তোলা হয়। পাহাড়ের কাছে বেঁধে রাখা অন্য একটা জাহাজ থেকে সেই পলিমাটি ঠেলে পাঠানো হতো সল্টলেকে। খাল বরাবর লালরঙের লোহার মোটা পাইপ, খাল বরাবর সল্টলেকের জলাভূমিতে গিয়ে পড়ত।’

‘প্রতি বছর প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে একটার পর একটা। লক্ষ-লক্ষ ছেলে-মেয়ে পরীক্ষা দিচ্ছে। বছরের-পর-বছর ধরে ছাত্র-ছাত্রীরা প্রিপারেশান নিচ্ছে। তারপর দেখছে, প্রশ্ন ফাঁস হয়ে গেছে। আবার অনিশ্চয়তা। এই সমাজে বড় হয়ে ওঠা তরুণপ্রজন্ম কী শিখছে? তাদের ভবিষ্যৎ বলে কিছু আছে? কেউ ভাবছে?’

‘উড়ন্ত সে-সীমা থেকে আরও কিছু দূরে গেলে টিলা।/ নীচে যে-শহর, তা আসলে আংটি। শয়তানের হাতে।/ আলো ও শব্দের মধ্যে যুবতীরা সহজ টাকিলা…/ নেশার নিকষ ডানা, উড়ে যাবে কাল, সুপ্রভাতে।’

মাঝবয়সি মায়েদের সবচেয়ে বড় প্রতিভা হল, তারা যে-কোনও ঘটনাকে সম্ভাব্য বিপর্যয়ে পরিণত করতে পারে। ছেলে পাঁচ মিনিট বেশি ঘুমোল? নিশ্চয় শরীর খারাপ। দশ মিনিট আগে ঘুম থেকে উঠল? নিশ্চয় কোনও গোপন প্রেম চলছে। ঘরে দরজা বন্ধ করে বসে আছে? ড্রাগ নিচ্ছে না তো?

‘‘পুরনো বই কিনলে, প্রথম কাজটি ছিল, পুরনো মালিকের নামটি নিষ্ঠুরভাবে ধ্বংস করা। একটা কাগজে, নিজের নামটি লিখে, আঠা দিয়ে কাগজটি সাঁটিয়ে দেওয়া। পুরনো বইয়ে যদি এই ধরনের ‘নাম-খেলা’ হয়েই থাকে, সেগুলো তো কাটা যায় না, বইটা নোংরা হয়ে যাবে।’’

‘ওই চারচৌকো ঘরই আমাদের রংমহল হয়ে উঠল। মজলিসের জন্যে যে বৈভব লাগে না, লাগে ভালবাসা, সেটা ভাগ্যিস আমরা ওই বয়সেই বুঝতে পেরেছিলাম!’

“তখন দুপুর দেড়টা, চান করিনি, খাইনি। সত্যদা বললেন, ছাড়ো তো..। বাগবাজারে ‘যুগান্তর’ অফিসে যেতে হবে, অমিতাভ চৌধুরী তোমাকে নিয়ে যেতে বলেছেন। সুনীলদা বললেন, আমি তোমার বাড়িতে বলে দেব।”

‘‘বাবা নিজে স্কুলের শিক্ষক হয়েও, এটা বুঝতে পারলেন না যে— বেশি ভালর দঙ্গলে, আমি হারিয়ে যেতে পারি! ‘অতি বেশি ভাল’র দলে, আমার মতো ‘অত ভাল নয়’, মোটেই পাত্তা পাবো না।’’
This Website comprises copyrighted materials. You may not copy, distribute, reuse, publish or use the content, images, audio and video or any part of them in any way whatsoever.
©2026 Copyright: Vision3 Global Pvt. Ltd.