
শুধু কবিতার জন্য: পর্ব ৫৪
‘উড়ন্ত সে-সীমা থেকে আরও কিছু দূরে গেলে টিলা।/ নীচে যে-শহর, তা আসলে আংটি। শয়তানের হাতে।/ আলো ও শব্দের মধ্যে যুবতীরা সহজ টাকিলা…/ নেশার নিকষ ডানা, উড়ে যাবে কাল, সুপ্রভাতে।’

‘উড়ন্ত সে-সীমা থেকে আরও কিছু দূরে গেলে টিলা।/ নীচে যে-শহর, তা আসলে আংটি। শয়তানের হাতে।/ আলো ও শব্দের মধ্যে যুবতীরা সহজ টাকিলা…/ নেশার নিকষ ডানা, উড়ে যাবে কাল, সুপ্রভাতে।’

মাঝবয়সি মায়েদের সবচেয়ে বড় প্রতিভা হল, তারা যে-কোনও ঘটনাকে সম্ভাব্য বিপর্যয়ে পরিণত করতে পারে। ছেলে পাঁচ মিনিট বেশি ঘুমোল? নিশ্চয় শরীর খারাপ। দশ মিনিট আগে ঘুম থেকে উঠল? নিশ্চয় কোনও গোপন প্রেম চলছে। ঘরে দরজা বন্ধ করে বসে আছে? ড্রাগ নিচ্ছে না তো?

‘‘পুরনো বই কিনলে, প্রথম কাজটি ছিল, পুরনো মালিকের নামটি নিষ্ঠুরভাবে ধ্বংস করা। একটা কাগজে, নিজের নামটি লিখে, আঠা দিয়ে কাগজটি সাঁটিয়ে দেওয়া। পুরনো বইয়ে যদি এই ধরনের ‘নাম-খেলা’ হয়েই থাকে, সেগুলো তো কাটা যায় না, বইটা নোংরা হয়ে যাবে।’’

‘ওই চারচৌকো ঘরই আমাদের রংমহল হয়ে উঠল। মজলিসের জন্যে যে বৈভব লাগে না, লাগে ভালবাসা, সেটা ভাগ্যিস আমরা ওই বয়সেই বুঝতে পেরেছিলাম!’

“তখন দুপুর দেড়টা, চান করিনি, খাইনি। সত্যদা বললেন, ছাড়ো তো..। বাগবাজারে ‘যুগান্তর’ অফিসে যেতে হবে, অমিতাভ চৌধুরী তোমাকে নিয়ে যেতে বলেছেন। সুনীলদা বললেন, আমি তোমার বাড়িতে বলে দেব।”

‘‘বাবা নিজে স্কুলের শিক্ষক হয়েও, এটা বুঝতে পারলেন না যে— বেশি ভালর দঙ্গলে, আমি হারিয়ে যেতে পারি! ‘অতি বেশি ভাল’র দলে, আমার মতো ‘অত ভাল নয়’, মোটেই পাত্তা পাবো না।’’

‘খবরে তো হরদম শুনি, স্কুলে, রেস্তরাঁয়, শপিং মলে ঢুকে এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়ে একরাশ লোক মেরে ফেলার খবর। বন্দুকবাজ ধরা পড়লেই বলা হয় সে নাকি মানসিক রোগী। বড়লোকের দেশটার সর্বস্তরে এত সাইকো থাকলে, রিহ্যাব কি কম পড়িয়াছে?’

‘আজ থেকে কয়েক বছর পর কি এরকম অঙ্ক আসতে পারে যে, কোন ক্ষমতাশালী মানুষ, চাকরির বিনিময়ে এত টাকা ঘুষ নেন। সেই ঘুষের টাকা থেকে, শতকরা এত এখানে, শতকরা এত ওখানে কাটমানি দিতে হয়। এতজন যদি চাকরি পায়, ক্ষমতাশালীর পকেটে কত টাকা আসবে?’

‘আসলে, আমাদের সমাজে মেয়েদের জীবন নিয়ে একটা অদৃশ্য সিলেবাস আছে। জন্মাবে, পড়াশোনা করবে, চাকরি করতে পারে, না-ও করতে পারে, কিন্তু গল্পটা শেষ পর্যন্ত গিয়ে থামবে বিয়ে, সন্তান আর সংসারের ঘাটে।’

‘তবে কেউ যদি ভাবেন সাহেবদের দেশ বলেই ঝকঝকে তকতকে, ভুল করবেন। বেশ নোংরা, হয়তো এই মরুভূমির মাঝখানে যথেষ্ট সাফাইকর্মী পাওয়া যায় না বলে। এই ভেবে মনকে সান্ত্বনা দিলাম।’

‘আমারটা বুঝব এবং অন্যেরটা দলেপিষে ছারখার করব— এই অমানবিক স্বার্থপরতাকে দেশের অবশ্যকর্তব্য বলে মাথায় তুলে নাচি। কোনও দলকে দোষ দিয়ে লাভ নেই, সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রহার-প্রবৃত্তি লকলক না করলে আজ এই মারকুটে-পনার জয় দেখতে হত না।’

পানভোজন থেকে গানভোজন— সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ও স্বাতী গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে কাটানো আশ্চর্য এক রাত, যেখানে কবিতা আছে, সুনীলের উদাত্ত কণ্ঠে রবীন্দ্রনাথের গান আছে, আছে চিতল মাছ ভাজা! সব পেরিয়ে, ভোরে উঠে হাতির পিঠে চেপে গণ্ডার দেখতে যাওয়ার তাড়া…
This Website comprises copyrighted materials. You may not copy, distribute, reuse, publish or use the content, images, audio and video or any part of them in any way whatsoever.
©2026 Copyright: Vision3 Global Pvt. Ltd.