
মেঘে মেঘে বেলা : পর্ব ৪
একসময় সিঁড়ি ভাঙা ছিল জীবনেরই একটা অংশ— দু’ধাপ একসঙ্গে লাফিয়ে ওঠা, দেরি হয়ে গেলে হুড়মুড় করে চারতলা উঠে যাওয়া, তারপরও হাঁপ না ধরা। এখন সিঁড়ির সামনে দাঁড়ালেই হাঁটু আগে সতর্ক করে: আগে ভাবো, তারপর ওঠো।

একসময় সিঁড়ি ভাঙা ছিল জীবনেরই একটা অংশ— দু’ধাপ একসঙ্গে লাফিয়ে ওঠা, দেরি হয়ে গেলে হুড়মুড় করে চারতলা উঠে যাওয়া, তারপরও হাঁপ না ধরা। এখন সিঁড়ির সামনে দাঁড়ালেই হাঁটু আগে সতর্ক করে: আগে ভাবো, তারপর ওঠো।

‘‘আদৌ যে বড় হয়ে কিছু একটা হতে হয় সকলকে, সেটাই জানা নেই তখন। অনেকেই আঁকার খাতা দেখে বলছেন, ‘এ নির্ঘাত আঁকিয়ে হবে, মিলিয়ে নিও!’ কিন্তু সেসবও আমার মাথায় নেই। আঁকছি তো অনাবিল আনন্দ পাচ্ছি বলে, কিছু হওয়ার জন্য তো নয়।’’

‘চিঠি এসেছিল একটা। চন্দননগর থেকে ওই পত্রলেখক কী করে যেন জেনেছিলেন আমি কাছেই শ্রীরামপুরে থাকি। গিয়েছিলাম। বৃদ্ধ পত্রলেখক, তাঁর স্ত্রী জানিয়েছিলেন, মাধো সিংয়ের গুরুদেব সন্ন্যাসীর সঙ্গে তাঁদের নিখোঁজ পর্বতারোহী ছেলের মুখের বড় মিল।’

‘জলে ভাসত ট্রামের হলুদ টিকিট, লক্ষ্মীবিলাস তেলের কাগজের বাক্স, ঢোল কোম্পানির মলমের চ্যাপ্টা কৌটো। নন্দলাল বসু স্ট্রিটে ছিল, জজের বাড়ি। জজসাহেবকে কখনও দেখিনি আমি, কিন্তু ছোট্ট গাড়ি-বারান্দাওয়ালা বাড়িটাকে সবাই বলত জজের বাড়ি।’

‘আমাদের দলে ছিল এক এক্সপার্ট ট্রাভেল ব্যবসায়ী, আগে বহুবার এসেছে ভেগাসে। সে দাবি করল, সে নাকি যতবারই ক্যাসিনোতে খেলেছে, ততবারই বিরাট টাকা জিতেছে। এরকম আমি আগে শুনেছি ভেগাস ফেরত লোকজনের মুখে, তাই বিশ্বাস করলাম না মোটেও।’

‘পরিক্রমা শেষ হলে মন ফেরে বিছানার কাছে/ শরীর তখন ঘুমে অচেতন। শিয়রে ঘড়িটি/ সাক্ষী থাকে ভ্রমণের, কাঁটা জ্বলে মুহূর্তের আঁচে…/ প্রতিটি মৃত্যুই জেনো নতুন ঘুমের জন্মতিথি।’

‘তবে গঙ্গার জল সরবরাহের ভূগর্ভের পাইপ-লাইনের অস্তিত্ব এখনও দেখা যায়। মহাজতি সদনের পিছনের গলিগুলোতে, কারবালা ট্যাঙ্ক লেনে, মানিকতলা অঞ্চলে চোখে পড়েছে।’

‘আমার আত্মীয়-পরিজন আমার এই রূপান্তর দেখে মাঝে-মাঝে যখন অবাক হয়ে যায়, আমি তৎক্ষণাৎ কোভিডকে দায়ী করি। কোভিড ব্যাটাই আমার মাথার ঘিলুকে কিলাইকে কাঁঠাল পাকাইয়া দিয়া। কিন্তু এ-ব্যাপারে অভিজ্ঞ বয়স্ক মহিলারা অন্য এক ভিলেনকে দোষ দিচ্ছেন। সে হল: মাঝবয়স।’

‘বউদি বাপের বাড়ি গেল। মহিলাদের মুখে পোয়াতি কথাটা শুনেছিলাম শৈশব থেকেই। মানেটাও বুঝতাম। পুরুষ গুরুজনরা বলত গর্ভবতী, দাদু বলতেন অন্তরাবর্তী। কিছুদিন পর বউদি ফিরল কোলে বাচ্চা নিয়ে। ছেলে হয়েছিল। পিসেমশাই নাম রাখলেন সুজিত।’

‘সে যাকগে, আমরা ফাটাকেষ্ট, হাতকাটা ছোটন, শ্মশান স্বপন, এসব নাম শুনে অভ্যস্ত। ওইসব সাহেবি অপরাধীদের নাম শুনিনি কস্মিনকালেও।’

‘‘মরিচঝাঁপির ঘটনা যখন ঘটে, তখন আমি সবে ‘পরিবর্তন’ পত্রিকায় যোগ দিযেছি। এর বছরদেড়েক বাদে ১৯৮০-র শেষে আমি যখন চম্বল যাই, তখন রায়পুরে নেমে মানা-র শরণার্থী শিবিরে যাই, আশপাশের অঞ্চলেও দিনতিনেক ঘুরি, মরিচঝাঁপি থেকে উৎখাত হওয়া উদ্বাস্তুদের হাল দেখতে। মানা-র উদ্বাস্তু পল্লিতে আমি দেখেছি নবজাতক শিশু কোলে মা-কে।’’

‘সে-রাতে, যতদূর মনে পড়ছে, উস্তাদ আশিস খানের সরোদের সঙ্গে বাজাবেন উস্তাদ জাকির হুসেন। জাকিরজি-কে ততদিনে বেশ কিছু আসরে সামনে ব’সে শোনার সৌভাগ্য হয়েছে, আশিস খানের বাজনা তখনও শুনিনি। এই দু’জন জোট বাঁধলে ধুন্ধুমার কাণ্ড হবেই নির্ঘাত! তাই ছাড়ার কোনও প্রশ্নই নেই।’
This Website comprises copyrighted materials. You may not copy, distribute, reuse, publish or use the content, images, audio and video or any part of them in any way whatsoever.
©2026 Copyright: Vision3 Global Pvt. Ltd.