২০২২ সালে আমরা ভারতের স্বাধীনতার ৭৫ বছরে পা রাখলাম। কিন্তু যে আশার আলোয়, যে প্রতিশ্রুতির ঘনঘটায় ভারত ‘স্বাধীন’ হয়েছিল সে-বছর, তার কতটুকু অবশিষ্ট আছে আজ? এই দেশের মধ্যে যারা বসবাস করছি এই সময়ে, তারা আদৌ স্বাধীন তো? এই প্রশ্নগুলোকে কেন্দ্র করেই পেন আমেরিকা জানতে চেয়েছিল, বিভিন্ন লেখকের বক্তব্য। ‘স্বাধীন’ বা ‘স্বাধীনতা’ শব্দগুলো নিয়ে তাঁরা কী ভাবছেন আজকের দিনে, তাঁরা তা জানিয়েছেন। সেই শতাধিক লেখকের শতাধিক ভাবনার কথাগুলোই এবার থেকে বাংলা অনুবাদে প্রকাশ পাবে ডাকবাংলা.কম-এ।
পেরুমল মুরুগান (লেখক)
একনায়কত্ব বা রাজার রাজ্যে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ চলে। কিন্তু গণতন্ত্রের দেশে এসব চলে না। ক্ষমতার হস্তান্তর এবং বিকেন্দ্রীকরণই গণতন্ত্রের প্রতীক। ভারতের কথা ভাবলে, ক্ষমতার হস্তান্তর এবং বিকেন্দ্রীকরণ দ্রুত গতিতে ঘটেনি, তার অন্যতম কারণ এখানের সনাতন ধর্ম। যে ধর্ম কিনা জাতিভেদের কাঠামোকে রক্ষা করে। জাতিভেদের কাঠামোই হিন্দুধর্মের ভিত্তি। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বর্ণভেদের কাঠামোয় নির্মিত মনস্তাত্ত্বিক বিশ্বাসের সুবিধেবাদে পুষ্ট হয়ে সনাতন ধর্ম যে-কোনও পরিবর্তনকে রুখে দেওয়ার চেষ্টা করে। যখন কোনও পরিবর্তন অনিবার্য হয়ে ওঠে, তখন ধর্মের এই কাঠামো সেই পরিবর্তনের গতিকে আরও শ্লথ করার চেষ্টা করে। সনাতন ধর্ম প্রতিনিয়ত সমাজের যে-কোনও বিদ্রোহকে তার নিজস্ব বলে ঘোষণা করে, নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। প্রয়োজনে সংঘর্ষের সৃষ্টি করে। সহিংসতার উদ্রেক ঘটায়। সনাতন ধর্ম যেনতেন প্রকারে ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য ক্রূর চেষ্টা চালিয়ে যায়।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা একটি গণতন্ত্রে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য ভিত্তিগত দাবি। একটি কার্যকর ও সক্রিয় গণতন্ত্রে অনেক ধরনের কণ্ঠস্বর উত্থাপিত হয়। প্রতিটিকে তার যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া হয় সেখানে এবং সমস্ত কণ্ঠস্বরকে বিবেচনায় রেখে সামাজিক নিয়মগুলি নির্ধারিত হয়। কিন্তু মতপ্রকাশের স্বাধীনতা তো সনাতন ধর্মের বিরুদ্ধে। সনাতন ধর্মের নীতিই হল, নিম্ন স্তরের অধীনস্থ ব্যক্তিদের, উচ্চস্তরের ব্যক্তিদের দ্বারা নির্ধারিত নিয়মগুলিকে প্রশ্নাতীতভাবে মেনে নেওয়ার জন্য বাধ্য করা। ঘটনা হল, সবাই তো আর কথা বলতে পারে না। কে কথা বলতে পারে এবং কে শুনতে পারে, তা স্পষ্ট বলে দেওয়া আছে সেই কাঠামোয়। যে-কোনওখানে আজ কেবল একটাই স্বর শুনতে পাওয়া যায়।
সনাতন ধর্ম মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে ডানা মেলতে দেয় না। বহুমতের কণ্ঠের প্রতি সনাতন ধর্ম অসহিষ্ণু। বর্ণভেদ জাতিভেদের কাঠামোকে প্রতিষ্ঠিত নিয়ম হিসাবে ধার্য করে সনাতন ধর্ম মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে রুদ্ধ করতে চায়। আর যখন পারে না, তখন আইনের আশ্রয় নেয়। মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে আরও পরিধি দেওয়ার কোনও আইন এই দেশে নেই। এখানে প্রতিটি অধিকারের নেপথ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লাঠিসোটা একদম খাড়া করে রাখা। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য সেই দণ্ডটি একটু বেশিই লম্বা। সনাতন ধর্মের হাত যে-কোনও মুহূর্তে আঘাত হানার জন্য প্রস্তুত। বহু শতাব্দী ধরে সনাতন ধর্ম যেভাবে প্রায় সমস্ত সামাজিক স্থানই দখল করেছে, দেশজুড়ে থানে-বেথানে তার এখন হাজার-হাজার হাত। তাকে আটকায় কে!
সীতা ভেঙ্কটেশ্বর (লেখক, কার্যনির্বাহী-ব্যবস্থাপক)
‘There is a crack in everything, that’s how the light gets in.’ ১৯৯২ সালে বেরনো লিওনার্ড কোহেনের ‘দ্য ফিউচার’ অ্যালবামের ‘অ্যান্থেম’ গানের এই লাইনটা মনে পড়ে গেল।
ভারতের স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্তির সময়ে, রাষ্ট্র হিসেবে ভারত-সম্পর্কিত ধারণা যখন হয়ে উঠছে— ‘সংখ্যাগরিষ্ঠের অত্যাচার চলে যে-দেশে’, তখন আমি, আর বাকিদের মতোই, কিছু দূর থেকে এই দেশের কার্যকলাপকে লিপিবদ্ধ করছি, সাক্ষী থাকছি, এবং বিরোধিতার আওয়াজ তুলছি। মাতৃভূমি আর বাসভূমি আলাদা হওয়ার ঝুঁকি তো আছেই। আমাদের জীবনের অতীত এবং বর্তমানের যে বাঁধন, তারই মধ্যে রয়েছে আমাদের ‘ঘর’, যা বহু দেশে বিস্তৃত, যেখানে আমি নিজেকে ভারতীয় বলে পরিচয় দিই, এবং বৈচিত্রময় ও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ কল্পনা করার লক্ষ্যে বিভিন্ন সম্মিলিত প্রয়াসের সঙ্গে একাত্ম হই।
এই সময়টার অনিশ্চয়তাকে বুঝতে আমি আমার নৃতাত্ত্বিক শিক্ষাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছি । দেশ জুড়ে সাম্প্রতিক গণসংহতিগুলি যেভাবে স্পন্দিত হচ্ছে, সেগুলির কথা মনে করার চেষ্টা করি, সেগুলিকে বোনার চেষ্টা করি। কারণ, এই দেশে স্বৈরাচারী পিতৃতন্ত্রের পরিধি নতুন করে পুনরুত্থান ঘটানোর চেষ্টা চলছে। প্রতিরোধকে দমন করার চেষ্টা হচ্ছে এবং নতুন সংকল্পে দেশকে গড়ে তোলার চেষ্টাও হচ্ছে খুব। আমাদের লক্ষ্য, এই দীর্ঘ ফন্দিফিকিরের গতিবিধি বুঝতে পেরে যাওয়া। সেগুলি বানচাল করা। একটু একটু করে পরিকল্পনার সঙ্গে ভেঙে ফেলতে হবে সেসব অভিসন্ধি, যে-ভিত্তি এবং যে-প্রকল্প স্রোতের উপর শাসক শ্রেণি তাদের স্বৈরিতার অট্টালিকা বানিয়েছে। এবং এই নির্মাণ কয়েক বছর বা দশকের নয়, তা আদপে ৭৫ বছর আগে স্বাধীন ভারতের অভ্যুদয়ের পর থেকেই শুরু হয়েছিল। কিন্তু, ভুলে গেলে চলবে না— সহিংসতা, নজরদারি এবং হুমকি দেশ জুড়ে ডালপালা ছড়ালেও, ইতিহাস আমাদের শেখায় যে প্রতিটি স্বৈরিতার মধ্যেই ফাটল রয়েছে। আমাদের প্রচেষ্টা হল সেই ফাটলগুলোকে আরও বড় করে তোলা, যাতে সেখান থেকে আলো আরও বেশি করে প্রবেশ করতে পারে। কেবল চিন্তা একটাই, এই বদল আনার আহ্বানে নেতৃত্ব দেবে কে? কার আছে সেই পরাক্রমী সাহস?
কৃতজ্ঞতা :
Khilnani, Sunil (2017). The Idea of India. Farrar, Strauss & Giroux, New York.
Santos, Baventura Sousa & Mendes, José Manuel (Eds.). (2020). Demodiversity: Towards Post-Abyssal Democracies (1st ed.). Routledge.
Egan, Daniel (2013). Rethinking War of Maneuver/War of Position: Gramsci and the Military Metaphor. Critical Sociology, 40 (4): 521-538.
সিদ্ধার্থ দেব (লেখক)
‘ভারত একটা রাষ্ট্র নয়। ভারতকে বরং সমস্ত জাতির একটা বিশাল কারাগার বলা যেতে পারে।’ বেশ কিছু বছর আগে যিনি এই কথাগুলি আমাকে বলেছিলেন, তাঁর নাম বলব না। তিনি এখন জেলে বন্দি, এবং সেখানকার কয়েদিদের নিত্যযন্ত্রণা তুলে ধরার ক্ষেত্রেও আমার হাত-পা বাঁধা। সেই নাম, সেসব যন্ত্রণার কথা যদি এখান থেকে কানাকানি হয়ে যায়, হয়তো উপমহাদেশ-সাইজের কারাগারটার ওপরমহল থেকে হুকুম তামিল হবে : আমার সেই কয়েদিবন্ধুদের প্রতি অত্যাচারের মাত্রা বাড়িয়ে তোলার। জন কোয়েটজের ‘ওয়েটিং ফর দ্য় বারবারিয়ানস’ উপন্যাসে কর্নেল জল যেমন বলেন, ‘প্রথমে মিথ্যেই আসে। মিথ্যে, চাপ, আরও মিথ্যে, আরও চাপ। একসময় সে ভেঙে পড়ে, তারপরে আরও একটু বাড়তি চাপে সত্যিটা বেরিয়ে আসে।’
এটা সেই ধরনের সত্য, যার ফলে হাজার হাজার লোককে জেল খাটতে হচ্ছে, স্বাধীনতার ৭৫ বছর উদ্যাপনের সময়— যেমন, ‘অজ্ঞতাই শক্তি’, ‘যুদ্ধই শান্তি’ এবং ‘দাসত্বই স্বাধীনতা’। তাও কয়েকজন বিশিষ্ট মানুষের নাম উল্লেখ করা যায়, করতেই হবে, চেষ্টা করতেই হবে তাঁদের না-ভুলতে, যাঁরা হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদ ও পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন এবং ভারতের বৈষম্যে মোড়া সমাজে প্রান্তিক মানুষজনের পাশে থেকে তাঁদের জন্য সুবিচার চেয়েছিলেন।
আমি বলতে পারি স্ট্যান স্বামীর নাম। তিনি বন্দি ছিলেন, তারপর তাঁকে ভারত রাষ্ট্র হত্যা করে ২০২১ সালের ৫ জুলাই। তাঁর কথা বলতে পারছি, কারণ তাঁর জীবনটা অন্তত এখন জেল কর্তৃপক্ষের আওতার বাইরে, যদিও তাঁর স্মৃতিকে কিছু করার ক্ষমতা তাদের নেই। ফাদার স্ট্যান ৮৪ বছর বয়সে প্রাণ হারালেন, কারণ দেশটা যাঁরা চালান তাঁরা ভয় পেলেন এক জেসুইট যাজককে, যিনি কাজ করেছেন জনজাতির মানুষের জন্য— যারা হিন্দুত্ববাদ, রাষ্ট্র এবং পুঁজির আত্রমণে ধ্বস্ত। পার্কিনসন্স রোগে আক্রান্ত ফাদারের জামিন নাকচ করে দিলেন মহামান্য আদালতের বিশেষ বিচারক, কারণ তাঁর মনে হয়েছিল এটা ‘বানানো অসুখ’। স্ট্যান স্বামীর নাম বলুন, জোরে বলুন।
এবার বলা যাক অরুণ পেরেইরার নাম, যিনি তাঁর জেলবন্দি সময়ের কথা লিখে গিয়েছেন তাঁর বই Colours of The Cage: A Memoir of an Indian Prison-এ। কারাবাসের এই স্মৃতিকথার মার্কিন সংস্করণের ভূমিকা আমি লিখে ওঠার আগেই আবার তাঁর ঠাঁই হল রাষ্ট্রের গারদে। বলুন না অরুণ পেরেইরার নাম! এঁদের নামও বলুন— উমর খালিদ এবং রোনা উইলসন। আনন্দ তেলতুম্বড়ে, সুরেন্দ্র গাডলিং, সুধীর ধাওয়ালে, সোমা সেন, মহেশ রাউত, জ্যোতি জগতাপ, গৌতম নওলাখা, হ্যানি বাবু, সাগর গোর্খে এবং রমেশ গাইচোর— এঁদের সবার নাম বলুন!
ভারতীয় কারাগারে থাকা চেনা-অচেনা হাজার রাজবন্দির নাম বলুন। কাশ্মীরের জনগণের নাম বলুন!
বলুন সেই ৫০ লক্ষ মানুষের নাম, যাঁরা রাজনৈতিক অপরাধীও নন। যাঁরা শুধুমাত্র দরিদ্র, দলিত বা মুসলমান হওয়ার অপরাধে বন্দি হয়েছেন কারাগারের দেওয়ালের মধ্যে। নাম জানেন না? তবু বলুন।
আর বলে ফেলুন তাঁদের নাম, যাঁরা এখনও কারাগারের বাইরে আছেন বটে, কিন্তু তাঁদের নাম ঢুকে গেছে এই তালিকায় বা সেই তালিকায়। এঁরা আছেন এনআইএ, সিবিআই বা উত্তর প্রদেশ পুলিশের নজরে। আসলে এই মানুষদের কার্যকলাপে হিন্দু দক্ষিণপন্থী নেতাদের বদহজম ও দুঃস্বপ্ন জন্মাচ্ছে।
আর সবশেষে নিজের নামটা বলুন, কারণ আপনারও তো ভয় হয়— একদিন ওরা আপনাকেও ধরতে আসবে। মাঝরাত্রে আপনারও ঘুম ভেঙে যায়— কে জানে আপনার লেখালেখি, কথোপকথন বা ভাবনাচিন্তা রাষ্ট্রের নজরে পড়ে গেল কি না? নামটা বলুন, কারণ আপনার ভয় করে, ওরা আপনাকে ধরে নেবে, বা প্লেনে চড়ে কোথাও যেতে গেলেই আটকাবে, বা অন্য কোথাও থেকে ফিরলে আর ঢুকতে দেবে না। এভাবেই আপনি বুঝতে পারবেন, আপনি রাষ্ট্রের মুখোশ পরা কারাগারের বিপক্ষে, এবং অনেকরকম পৃথিবীর অনন্ত সম্ভাবনার পক্ষে।
সিদ্ধার্থ দুবে (লেখক)
স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি আর ৭৫ বছর পূর্তির কত তফাত!
২৫ বছর আগে ছিল একটা নতুন শতাব্দী শুরুর হাতছানি, একটা আশা ছিল। এমনকী, দারিদ্র এবং প্রান্তিকীকরণ নিয়ে কাজ করা আমার মতো মানুষজনও স্বপ্ন দেখতে ছাড়েনি। তা বলে আমি এইসব ঢক্কা-নিনাদে বিশ্বাস করতাম না যে অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক মহাশক্তি হিসেবে বিশ্বদরবারে ভারত শীঘ্রই উদিত হবে। দারিদ্র, নিরক্ষরতা, অস্বাস্থ্য ও বৈষম্যের মতো বিষয়ে ভারত যে কতটা বিপর্যস্ত, তা আমার গবেষণার কারণে ভালই জানা ছিল। তবুও, প্রচণ্ড প্রতিকূলতার মধ্যেও গণতন্ত্রের শক্তিলাভ আমাকে আশান্বিত করেছিল। আমিও ভেবে ফেলেছিলাম, কিছু একটা হবে নিশ্চয়ই।
আমি সাক্ষী ছিলাম, পশ্চিমবঙ্গের যৌনকর্মীরা বহু দাবিতে লড়ছিলেন— সাম্য, মর্যাদা, ন্যায্য পারিশ্রমিক, ‘অপরাধী’র তকমা মুছে ফেলা। ১৯৯৭-এর নভেম্বরে, কলকাতায় আয়োজিত যৌনকর্মীদের জাতীয় সম্মেলনে, সকলকে বেশ চমকে দিয়েই প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়েছিলেন তৎকালীন কার্যনির্বাহী কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, কিংবদন্তি কমিউনিস্ট নেতা ইন্দ্রজিৎ গুপ্ত।
উত্তর প্রদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল আওয়াধ গ্রামে বহুদিন বসবাস করার সুবাদে সেখানকার দলিতদের লড়াইয়েরও সাক্ষী আমি। উঁচু জাতের জমিদারদের কাছে শতাব্দী ধরে অত্যাচারিত হয়ে শেষমেশ তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর দৃষ্টান্ত গড়েছিলেন তাঁরা। মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছিল। কারও স্মৃতিতেও নেই, কোনওদিন দলিতরা সে-সাহস আগে সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন কি না। এরপর দলিত মহিলা ও পুরুষেরা গ্রামের জমিদারদের স্বৈরাচার বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছিলেন। ছোট্ট গ্রামের সেই সংগ্রামের যে-বার্তা, তা-ই বহু গুণ প্রতিফলিত হয়েছিল, যখন মায়াবতী নামক এক দলিত মহিলা পরবর্তীকালে এই সুবিশাল, অরাজকতার রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন।
তখন অনেক আশার উদ্ভাস ঘটেছিল, এখন সেসব কিচ্ছু নেই।
দীর্ঘ বেশ কয়েক বছরে, মোদি সরকারের অব্যবস্থাপনা ও অত্যাচারের ফলে বর্তমানে ভারতের সমাজ নিজের কাছের মানুষদের থেকেই মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। সুধা ভরদ্বাজ, স্ট্যান স্বামী এবং আনন্দ টেলটুম্বলের মতো অমূল্য রত্নদের আজ রাষ্ট্র গিলে খাচ্ছে। শুষছে আদিবাসী, দলিত, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও মুসলিমদের মতো অসহায় সংখ্যালঘুদেরও। এবং আগামীদিনেও ভারতের প্রগতির জন্য লড়াই করা সমস্ত ব্যক্তিকেই এই রাষ্ট্র গিলে খেতে তৎপর।
স্বাধীনতার ৫০তম বার্ষিকীতে ভারতকে নিয়ে গর্ব করার অনেক কিছু ছিল। ৭৫ বছরের পূর্তি উদ্যাপন করার মতো কিছু বেঁচে নেই।
সৌজন্যে : https://pen.org/india-at-75/