এক
তোমাকে থোড়াই কেয়ার করি।
বাড়িতে বাবা
সরকারি চাকুরিওয়ালা ছেলে খোঁজা
বন্ধ করে দিয়েছে। মানে, যেমন একটা,
হলেই চলবে। কিন্তু তুমি তো জানো ভাই
মেয়েদের ঠিক যেমন তেমন চলে না।
নিদেন পক্ষে, পায়ের নিচে পিষে যাবার পর
পুনরায় জ্যান্ত মুরগি
রান্নাঘর থেকে
আনার বহর চাই।
এমন গতর নিয়ে খেটে না খেতে পারলে
জীবনটা বিলকুল নষ্ট।
অবশ্য আছে কী জীবনের?
সিঁড়ি ধাপে ধাপে নেমে প্রথমে অদৃশ্য
তারপর হারিয়ে গিয়েছে।
প্রথম সাঁতারের সময় পরের ধাপটা
আছে কি নেই,
আছে কি নেই…
না থাকলে কঠিন বিচার
যথেষ্ট প্রমাণ না থাকায়
আমি
দেশ মাটি জলবায়ু
এমনকী
নিজেরও নই
দুই
শান্তির বন্ধনী থেকে সরে এসো
স্বীকার করে নাও, তুমিও অক্ষম
টুটা ফুটা গাছ
কিছুতেই
মাটির বুনিয়াদ হয় না
শুকনো, ঝুরো ঝুরো
নদীমাতৃক সভ্যতার দিকে
অসহায় ঝুঁকে পড়তে পড়তে
কখন উড়ে যায়
ছেঁড়া ঘুড়ির মতো, লাট খাওয়া
স্বপ্নের মতো
যারা দৌড়োয়
ফাঁকা হাতে ফিরে আসে
যারা কোথাও যায় না
তাদের হাত
কাউকে কিছুই দেয়নি কখনো
তুমি কি এ-দুই এর
মাঝামাঝি কিছু চাইছিলে?
সমঝোতা করে নাও
আবহাওয়া ও পোশাকের সঙ্গে
কাকে বদলাবে
কাকে রেখে দেবে
অবিকল
তিন
তোমায় মানিয়ে নিতে হবে সুবিমল, যেমন সকলেই নিচ্ছে।
এত যে দলবদল ঘন ঘন, বটের মতো ঘৃণা—
সদ্য বিবাহিত জুটি, চাকরি না পেয়ে টিউশন খোঁজা যুবক
সাইকেল রাস্তাঘাটে প্রায় বন্ধ হয়ে এল— এত দ্রুত গতি
আর এত যে অবৈধ ললাট
প্রেম লিখলে গ্রেফতারি পরোয়ানা
যে যুদ্ধে জিতবে ভাবছ,
মানিয়ে নিয়েছ তার বহুকাল আগে
চার
ইদানিং হতধ্যান আমারই সামনে এসে শ্রীকৃষ্ণ মুরারি
ক্ষোভ ও দুঃখে ম্লান, কেন যে যমুনা তীর হঠকারী ছেড়ে
গ্রামব্যাপী ভীরু যুদ্ধ— নিতান্ত উন্মাদ না হলে
সতত হ্লাদ নয় এমনকি বিমর্ষ আনে স্মৃতিও
কখনও, অতীতের ভুল শিক্ষা দিচ্ছে স্বয়ং;
অথচ বিপদ হল বস্তুপুঞ্জের মতো কোনো ভুল
অসম্ভব ভেবে নিরেট গ্রহণ করেছে বাকিরা
ইদানিং বড় ব্যথায় রক্তবর্ণ তাঁর মুখ,
রাধিকার অভিশাপ এইরূপে সত্য হল
পাঁচ
দূরত্ব কীভাবে সম্পর্ক গড়ে তোলে
এই নিয়ে ভেবেছি অনেক
সিদ্ধান্ত না পেয়ে, আরেকটি ভুল
পরখ করে বিজ্ঞানী
কবির কোথাও পৌঁছনোর দায় নেই অথচ
বারবার ভুল হবে, প্রমাণিত সত্যের কাছে
হেরে যাবে সত্য, পূর্বের
এই তথ্যে রোমাঞ্চিত হই, নতবিষাদ—
গাছ জানে জল হতে দূরত্ব চিরদিন
তবু হেলে পড়ে, নিকটে, যে রয়েছে
কোনোদিন জানা হবে না, হাতের মুঠোয় দম
বন্ধ মরবে বাতাস— প্রতি শ্বাস পলকবিহীন
একটি সাম্রাজ্যে নিহিত আর এক
অধিকার নেই, ঘন ঘন পুলিশি শাসন
একান্ত বিদ্রোহে সাম্য পুনরায়—
যা চেয়েছি পূর্ব জনমে, যেন
মানুষের খিদের কাছে দেশ বসে আছে।



