
সংগঠিত, উদ্যমী
‘চতুর্থীর দিন সকালে যোগেনদার ফোন, ‘একটা চেষ্টা করলাম৷ এসে দেখো তো কাজের হল কি না!’ দৌড়ে গিয়ে দেখি এক আজব দৃশ্য। ভেবেছিলাম বুঝি দশ মহাবিদ্যা বা দশাবতার আঁকবেন উনি। দেখি এঁকেছেন ফোলিয়েজ। ফুল-লতাপাতার এক জড়ানো লাউমাচা।’

‘চতুর্থীর দিন সকালে যোগেনদার ফোন, ‘একটা চেষ্টা করলাম৷ এসে দেখো তো কাজের হল কি না!’ দৌড়ে গিয়ে দেখি এক আজব দৃশ্য। ভেবেছিলাম বুঝি দশ মহাবিদ্যা বা দশাবতার আঁকবেন উনি। দেখি এঁকেছেন ফোলিয়েজ। ফুল-লতাপাতার এক জড়ানো লাউমাচা।’

‘বড় ছবিকে খাতায় ছোট স্কেচ করে রাখতেন, তারপরে সেখান থেকে বাছাই করে বড় ছবি হত। আবার সেই বড় ছবিগুলোকে খাতায় নোট করে রাখতেন, সেটারও একটা ছবি এঁকে। কোনওদিনও ফোটোগ্রাফির ব্যবহার করেননি। ওইভাবে কাজের দলিল করে রেখেছেন।’

এই ছবি এমন একটা সময়ে মুক্তি পাচ্ছে, যখন বাঙালি দর্শকের কাছে উত্তম কেবল ম্যাটিনি আইডলই নয়, আদ্যোপান্ত রোম্যান্টিক হিরো-র আদর্শ ছাঁচও বটে। সেইখানে দাঁড়িয়ে তাঁর শতদল চরিত্রটি একেবারেই আলাদা।

সুকুমারের লেখক-সত্তা ও শিল্পীসত্তার মধ্যে কল্পনার অবিরাম যাতায়াত আছে। শব্দে তৈরি সম্ভাবনা রেখায় স্পষ্ট হয়। প্রতিটি শব্দ আর প্রতিটি আঁচড়ের সাংঘাতিক আঁতাত। রেখার খুঁটিনাটি শব্দের অর্থকে প্রসারিত করছে।

যোগেনদা দীর্ঘজীবনের সিংহভাগটাই কাটিয়েছেন শিল্প ও শিল্পীর স্বার্থে। সব সময় চেষ্টা করতেন, কীভাবে মানুষকে শিল্প-অভিমুখী করা যায়। ওঁর তৈরি করা ‘চারুবাসনা’-য় নানা ধরনের অনুষ্ঠান হত। সেই সব উদ্যোগই ছিল সমাজ ও শিল্পকে একাত্ম করার প্রয়াস।

যোগেন চৌধুরী ’৪৭ সালে প্রথম উদ্বাস্তু হয়ে শহীদনগরে এসে উঠেছিলেন। যোগেনদা ছিলেন জমিদার পরিবারের সন্তান। তাঁর মধ্যে উদ্বাস্তুজীবনের দারিদ্র্য যেমন ছিল, তেমনই ছিল প্রখর শিল্পবোধ।

কবি-হিসেবে, অ্যান কার্সনের চরিত্র প্রায় বহুরূপীর মতো— তাঁর প্রতিটি বইয়ের ঘরানা ও প্রকরণ পূর্বপ্রকাশিত সমস্ত বইয়ের থেকে আলাদা। ২০২৬ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেলেন অ্যান কার্সন।

শিল্পীর কদর করতে জানতেন যোগেনদা, জীবনের শেষাবধি। নিজে কত বড় শিল্পী হয়েও, ছাত্রছাত্রীদের বা তরুণ শিল্পীদের কথা শুনতে চাওয়া, সেই কথার পরিসর তৈরি করার ক্ষেত্রে জুড়ি ছিল না যোগেনদার।

ভারত ছাড়ো আন্দোলনের গুরুত্ব ছিল সেই সময়ে অপরিসীম। নেতাজির মহানিষ্ক্রমণ ও আজাদ হিন্দ ফৌজের হাত ধরে স্বাধীনতার স্বপ্নের জাল বোনা, এই ঘটনা ঘটছিল দেশের বাইরে। কিন্তু দেশে ব্রিটিশ শাসনের কফিনে শেষ পেরেক হিসেবে দেখা হচ্ছিল এই আন্দোলনকেই।

ব্রিটিশ-তুর্কি সাহিত্যিক এলিফ শাফাক তাঁর ‘দ্য আইল্যান্ড অফ মিসিং ট্রিজ’ উপন্যাসটি উৎসর্গ করেছেন শিকড় থেকে উপড়ে তোলা মূলহীন, ভাসমান, অন্য দেশে বসত গড়তে বাধ্য হওয়া মানুষদের…

তাঁর বিষয়গুলো খুব সহজ, খুব সাধারণ, কিন্তু তাঁর প্রকাশভঙ্গি ছিল মৌলিক, অভিনব। এমন বিষয় তিনি বেছে নিতেন, যা সকলের হৃদয় অবলীলায় ছুঁয়ে যেত। তাঁর তুলির টান ছিল ‘ফ্রি ফ্লো’-এর মতো, যেন কোনও শিশু হাতে তুলি ধরেছে।

‘শাসক কীভাবে ফুটবলকে ব্যবহার করে দেশের গণমানসকে নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাবিত করতে পারে অর্থনীতির দুরবস্থা, গণতন্ত্রের সংকট, মতপ্রদানের স্বাধীনতা, মানবাধিকার হরণ ইত্যাদি সমস্ত সমস্যাকে উৎসবের কার্পেটের নীচে চালান করে দিতে পারে, ‘দ্য ইয়ার মাই পেরেন্টস ওয়েন্ট টু ভ্যাকেশন’ তারই একটা আশ্চর্য র্নৈব্যক্তিক দলিল হয়ে যাবে।’
This Website comprises copyrighted materials. You may not copy, distribute, reuse, publish or use the content, images, audio and video or any part of them in any way whatsoever.
©2026 Copyright: Vision3 Global Pvt. Ltd.