
নৃতত্ত্বের চোখে
ভারতীয় মহাকাব্যকে আজকে যে এককেন্দ্রিকতায় বেঁধে ফেলা হয়েছে; নানা বাঁধাধরা ছকে কিছু চরিত্রকে মহিমান্বিত করার রাজনীতি আজ দেশে মান্যতা পেয়েছে, কার্ভে-র মহাভারত পাঠ ঠিক তার উল্টো বয়ান তুলে ধরে।

ভারতীয় মহাকাব্যকে আজকে যে এককেন্দ্রিকতায় বেঁধে ফেলা হয়েছে; নানা বাঁধাধরা ছকে কিছু চরিত্রকে মহিমান্বিত করার রাজনীতি আজ দেশে মান্যতা পেয়েছে, কার্ভে-র মহাভারত পাঠ ঠিক তার উল্টো বয়ান তুলে ধরে।

’’রবীন্দ্রনাথের হাতে যখন প্রথম পৌঁছল ‘রবীন্দ্র-রচনাবলী’র প্রথম খণ্ড— একটি চেয়ারে বসে রচনাবলীর পাতা উলটোচ্ছেন কবি, রীতিমতো খুশিই দেখাচ্ছিল তাঁকে। সেসময় তাঁর চেয়ারের পিছনেই দাঁড়িয়ে পুলিনবিহারী। সেটা খেয়াল করেই কবি না কি বলে উঠেছিলেন—‘ইস! ভাবটা যেন কৃতিত্বটা ওঁরই’।’’

‘দুর্গম বুন্দেলখণ্ড জঙ্গল-পাহাড় ছানবিন করেও করেও আমরা বাবা ঘনশ্যামের হদিশ পেলাম না। কিন্তু আমাদের হতাশ দিনগুলির মধ্যে ঝোড়ো বাতাসের মতো উড়ে এল একটা সুখবর। বাবা ঘনশ্যাম ধরা পড়ে গেছে। কী আনন্দ, কী আনন্দ! এবার আমরা নিশ্চয়ই ফুলনের দেখা পাব।’

‘ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পরিহাস এখানেই। চাঁদ সওদাগর যে-দেবীকে ‘চ্যাংমুড়ি কানি’ বলে তাচ্ছিল্য করেছিলেন, সেই দেবীই পরে বাংলার অন্যতম প্রধান লোকদেবী হয়ে উঠলেন। ইনচুড়ায় আজও তাঁর নামে শ্রাবণে মানুষের ঢল নামে।’

তবে সিনেপ্রেমী হিসেবে আমাদের বেশি ‘চিন্তা হওয়া উচিত অন্য এক বিষয় নিয়ে। যখন এমন এক মহাকাব্যিক মাত্রার টেক্সটকে পর্দায় রূপান্তরিত করা হল, তার চরিত্রগুলো কি আদৌ যথেষ্ট পূর্ণাঙ্গ চরিত্র হয়ে ওঠার সুযোগ পেল?’

‘আসলে মাতা হারি-র দুটো জীবন। এক জীবনে পেয়েছিলেন খ্যাতি আর ঐশ্বর্যের শিরোপা, নানা ঘটনায় ভরা তাঁর সেই জীবন। আর সেই জীবনের করুণ সমাপ্তির পর আর-এক খ্যাতির জীবন, তবে সে-খ্যাতি অলৌকিক, আশ্চর্যের, বিতর্কের এবং অবশ্যই সাধারণ মানুষের ভালবাসার।’

অ্যান্ডি ওয়ারহল আমাদের ভাবতে বাধ্য করে— আমরা কি আদৌ জানি, আমাদের মন কীসে সত্যি আকর্ষিত হয়, আর যদি সে আকর্ষণ আদর্শের পরাকাষ্ঠার বাইরে হয়, তবে কি তাকে এক ঢোক গিলে ফেলতে হয় না কি তার সামনে গিয়ে মুখোমুখি দাঁড়াতে হয়।

‘সে বিশ্বাস করত, একদিন বোমারু বিমানের ঝাঁক গতি হারাবে সাদা সারসের ভিড়ে। আর একটা শিশুও যুদ্ধের বলি হবে না নীলগ্রহে। কোনও শিশুর লাশ দেখে রক্তলোলুপ হায়নার দল সহাস্য অপলক চাহনি ছুড়ে দেবে না। একদিন সব ঝড় থেমে আকাশ শুধু পাখির আশ্রয় হবে।’

‘‘পাঠক থ্রিলার বলতে যেখানে গতানুগতিক ‘হু ডান ইট’ বোঝে, সেই ভাবনার বাইরে গিয়ে ‘হোয়াই ডান ইট’-এর মাধ্যমে রহস্য-রোমাঞ্চ উপন্যাসের এক নতুন দিক পেশ করেছিলেন তাদের দরবারে— আর সেইখানেই লেখা হয়ে গিয়েছিল কিইগো হিগাশিনোর সাফল্যের গল্পটুকু।’’

যেভাবে উবার বা ওলা পরিবহণ ব্যবস্থাকে বদলে দিয়েছে, ঠিক তেমনভাবেই যৌনতার বাজারও ক্রমশ স্থাননির্ভরতা হারাচ্ছে। একসময় যৌনপল্লির ব্যবসা নির্ভর করত নির্দিষ্ট গলি, ঘর, দালাল এবং স্থানীয় খদ্দেরের ওপর। আজ স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট সেই কাঠামো ভেঙে দিয়েছে।

‘এই দেখে উপস্থিত দর্শকদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ বললেন— রামবাবু আর নামতে পারবেন না। কিন্তু বায়ুর দোলায় ওঠা-নামা করতে-করতে দূরবিনে চোখ রাখা বাঙালিদের স্বস্তি দিয়ে রামবাবু নেমে এল একসময়ে। বেলুনটি বিকেল পাঁচটা দশ থেকে টানা ৪০ মিনিট শূন্যে অবস্থান করে সোদপুরের কাছে নাটাগড় গ্রামে অবতরণ করে।’

‘‘কিন্তু এই স্বদেশি ইচ্ছার সেতুবন্ধন করলেন রামচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। যার হাতেখড়ি হয়েছিল এই স্পেনসারের কাছেই। তবে উল্লেখ্য, অবতারচন্দ্র লাহাই রামচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ‘বেলুনিং’-এর প্রতি আকৃষ্ট করেন এবং স্পেনসার সাহেবের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন।”
This Website comprises copyrighted materials. You may not copy, distribute, reuse, publish or use the content, images, audio and video or any part of them in any way whatsoever.
©2026 Copyright: Vision3 Global Pvt. Ltd.