হুকআপ শব্দটি আধুনিক জীবনযাত্রায় ব্যবহৃত খুব সহজ শব্দ। শব্দবন্ধনীটির মধ্যে অদ্ভুত রোমাঞ্চ আছে। সময়ের সঙ্গে-সঙ্গে সমাজে, অনেক কিছু গ্রহণ করতে হয় আবার কিছু বর্জনও। আধুনিক জীবনধারায় কত নতুন-নতুন শব্দ আমাদের বৃত্তে এসে পড়েছে। সিচুয়েশনশিপ, বেঞ্চিং, সফট লঞ্চ, গ্রীন ফ্ল্যাগ ইত্যাদি। সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে হুকআপ। রাস্তাঘাটে এইসব শব্দ শুনতে পাওয়া যায় এখন।
এই তো সেদিন অনয় বলল, ‘হুকআপ কালচার বেস্ট! প্রতিশ্রুতির কোনও চাপ নেই’ একটু থেমে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘সেটা আবার কী?’ অনয় ভ্রু কুঁচকে বলল, ‘আরে ভাই, হুকআপ! শুনিসনি? গুগুল করে নে!’ কথাটা শেষ করে আবার বলল, ‘নবপ্রজন্মের কাছে এই শব্দটার দারুণ আভিজাত্য আছে। আজকাল স্কুল কলেজের সমস্ত ছেলেমেয়েরা এই শব্দটার সঙ্গে ওতোপ্রোত ভাবে জড়িত।’ হুকআপ কালচার বলতে বোঝায় এমন এক সংস্কৃতি, যেখানে দু’জন মানুষ খুব কম পরিচয়ে এবং কোনওরকম প্রতিশ্রুতি ছাড়াই, শারীরিক বা অন্তরঙ্গ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। সেই সম্পর্কের কোনও ভিত্তি নেই। ভবিষ্যতে একসঙ্গে থাকা বা সম্পর্ক গড়ার কোনও প্রতিশ্রুতি নেই। এ যেন এক অবাধ স্বাধীনতা। দু’জন ব্যক্তির মতের মিলে মিলিত হওয়া এবং খুব সহজে সেই মিলনকে ভুলে যাওয়া। এই সংস্কৃতিকে বলা হচ্ছে হুকআপ কালচার।
শুনে মনে হবে এ যেন বিলিতি ধারণা! অথবা ‘জেন জি’ এই এই শব্দ বা সংস্কৃতির জন্ম দিয়েছে। আদৌ তা নয়, হুকআপ কালচার আগেও ছিল। কিন্তু তখন এই সংস্কৃতির নাম ছিল না। তবে হুকআপ কালচার মানেই, একজনের সঙ্গে শুধু শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন এমনটা নয়। এই সংস্কৃতির একটি সুবিধা হল, অপরিচিত কাউকে মনের কথা খুলে বলার সুযোগ। যেখানে একে অন্যকে বিচার করে না। মনের না বলা কথা, খুব সহজেই কম পরিচিত কাউকে বলা যায়। বলে শান্তি পাওয়া যায়। দৌড়ঝাঁপের জীবনে হুকআপ এখন নবপ্রজন্মের ‘দুদণ্ড শান্তি।’
১৯৯০-এর দশকের গোড়ায় মার্কিন সংবাদপত্র ও কলেজ ক্যাম্পাসে হুকআপ শব্দটি প্রথম ঘনিষ্ঠতা বা অপ্রতিশ্রুত যৌনসম্পর্ক বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে ১৯৯৩ সালের নিউ ইয়র্ক টাইমসের কলামে এই শব্দটি স্পষ্টভাবে রোম্যান্টিক সম্পর্ক নয়, বরং শারীরিক ঘনিষ্ঠতা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছিল। এরপর ১৯৮০–৯০-এর দশকে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে এই শব্দের ব্যবহার বাড়তে থাকে, যা পরে সমাজতাত্ত্বিক গবেষণার বিষয় হয়ে ওঠে। তবে হুকআপ কালচার অর্থাৎ একে একটি স্বতন্ত্র সামাজিক প্রবণতা বা কালচার হিসেবে চিহ্নিত করার প্রচলন শুরু হয় মূলত ২০০০-এর দশকে, যখন একাডেমিক গবেষণা, নীতিনির্ধারণী আলোচনা এবং মিডিয়ার ভাষায় শব্দটি নিয়মিত ব্যবহৃত হতে থাকে। শব্দটি নয়ের দশকে জন্ম নিলেও, সংস্কৃতি হিসেবে এর পূর্ণ রূপ পেয়েছে একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, বিশ শতকের মধ্যভাগে, যখন পশ্চিম সমাজে যৌন স্বাধীনতার আন্দোলন শুরু হয়, তখনই হুকআপ সংস্কৃতির জন্ম। জন্মনিরোধক ওষুধের আবিষ্কার (বিশেষত ১৯৬০–৭০-এর দশকে) নারী-পুরুষ উভয়ের উপরে যৌন নির্বাচন ও সময় নির্ধারণের ক্ষমতা এনে দেয়। এর ফলে শারীরিক সম্পর্কক শুধু বিবাহের সঙ্গে বেঁধে রাখার ধারণা ধীরে-ধীরে দুর্বল হতে থাকে। পরবর্তী পর্যায়ে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় সংস্কৃতি ও শহুরে তরুণ সমাজ হুকআপ সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। মার্কিন ও ইউরোপীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৮০–৯০-এর দশকে ক্যাজুয়াল ডেটিং, ফ্রেন্ডস উইথ বেনিফিট, ইত্যাদি ধারণা প্রচলিত হতে শুরু করে। পরবর্তী সময়ে ইন্টারনেট, সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিশেষত ডেটিং অ্যাপগুলোর আবির্ভাব হুকআপকে সহজলভ্য ও জনসমক্ষে নিয়ে আসে।
হুকআপ কালচারে দু’জন ব্যক্তি যখন মিলিত হচ্ছে, তখন তাদের যৌনতা উদ্যাপন অনেকটা খোলামেলা এবং প্রথাগত সম্পর্কের বেড়াজাল থেকে মুক্ত হয়। ফলে তাদের যৌনতা উদ্যাপন বৈচিত্র নিয়ে আসে। সমীক্ষা বলছে, হুকআপ কালচারে দু’জন ব্যক্তি প্রায়শই এমন কিছু ফ্যান্টাসির মধ্যে দিয়ে যায়, যা প্রথাগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে হয় না। কারণ এখানে অবাধ স্বাধীনতা পাওয়া যায়। ফলে বিডিএসএম, থ্রিসাম, গ্রুপ সেক্স, ওয়াইফ স্পোয়াপিং, কাকলোড ইত্যাদি ফ্যান্টাসি সহজেই পূরণ হয়। এই ধরনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একে অন্যের বয়স, পেশা, জাত, বর্ণ ইত্যাদি দেখে না। সমীক্ষার অনুযায়ী, হুকআপ কালচার একে অন্যকে বিচার না করে শুধু জীবনকে উপভোগ করার সহজ সংস্কৃতি। তবে হুকআপ কালচারকে কেবল যৌনতা উদ্যাপন করার মাধ্যম বললে ভুল বলা হবে। আধুনিক মনোবিজ্ঞানে বলা হয়, মানুষের ঘনিষ্ঠতার প্রয়োজন দু’ভাবে কাজ করে, একটি হল আবেগগত সান্নিধ্য এবং অন্যটি হল মানবিক সংযোগ বা অন্তর্ভুক্তির অনুভূতি। হুকআপে গভীর আবেগের দায় না থাকলেও, মানুষ সাময়িকভাবে সংযুক্ত হওয়ার অনুভূতি পায়, যা নিঃসঙ্গতা কমায় এবং মনকে স্থিতিশীল করে। এই সময়ে ডোপামিন ও অক্সিটোসিনের মতো নিউরোকেমিক্যাল হালকা মাত্রায় সক্রিয় হয়ে মস্তিষ্কে উষ্ণতা ও আরামের অনুভূতি তৈরি করে। শহুরে জীবনের চাপ, কাজের প্রতিযোগিতা ও সম্পর্কের জটিলতায় অনেকের মধ্যেই যে ‘ইমোশোনাল বার্নআউট’ তৈরি হয়, হুকআপ কালচার সেখানে এক ধরনের চাপমুক্ত ঘনিষ্ঠতার সুযোগ দেয়। যেখানে দায়িত্ব নেওয়ার দায় থাকে না, উপরন্তু শারীরিক উষ্ণতা পাওয়া যায়। সেই সঙ্গে এই সংস্কৃতি নিজের শরীর, সীমা, ইচ্ছা ও পছন্দ সম্পর্কে আরও সচেতন করে তোলে। শরীর নিয়ে সংকোচ বা অপরাধবোধ কমে, আত্মবিশ্বাস বাড়ে। দু’জন মানুষ যখন শুরু থেকেই জেনে আসে যে, এখানে দীর্ঘমেয়াদি কোনও প্রত্যাশা নেই, তখন সম্পর্কটি অযথা জটিল হয়ে ওঠে না। আধুনিক ব্যস্ত জীবনে এই স্পষ্টতা অনেকের কাছে স্বস্তির জায়গা তৈরি করে।
আজকের তরুণ সমাজ কেন ক্রমশ হুকআপ কালচারের দিকে ঝুঁকছে, তার পিছনে রয়েছে প্রযুক্তি, সমাজ, অর্থনৈতিক চাপ ও মানসিক কাঠামোর সমষ্টিগত প্রভাব। একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে ডেটিং অ্যাপ ব্যবহারকারীদের ৫৭ % মনে করেন ক্যাজুয়াল সম্পর্ক এখন বেশি গ্রহণযোগ্য কারণ এতে দায়বদ্ধতা কম এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বেশি। একই সময়ে গ্লোবাল রিলেশনশিপ স্টাডি ২০২৪ জানাচ্ছে, ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সসীমার ৪২% তরুণ-তরুণী দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ককে মানসিকভাবে ক্লান্তিকর বলে মনে করে। কেরিয়ার, প্রতিযোগিতা, আর্থিক চাপ, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ এবং শহুরে জীবনের একাকিত্ব এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখছে। ভারতের ন্যাশনাল ফ্যামিলি হেলথ সার্ভের তথ্য অনুযায়ী গত এক দশকে একা বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ, যা স্থায়ী সম্পর্কের বদলে সাময়িক ঘনিষ্ঠতা ও ব্যক্তিগত পরিসরকে প্রাধান্য দিতে শিখিয়েছে। প্রযুক্তির প্রভাবে মানুষের মানসিক প্রতিক্রিয়া বদলে গিয়েছে। গবেষণায় দেখা যায়, সোশ্যাল মিডিয়া ও ডেটিং অ্যাপের সোয়াইপ কালচার মস্তিষ্কের ডোপামিন রিওয়ার্ড সিস্টেমকে দ্রুত সন্তুষ্টির দিকে ঠেলে দেয়, ফলে কম প্রতিশ্রুতির, তাত্ক্ষণিক সংযোগ মানুষের কাছে স্বাভাবিক, এমনকী স্বস্তিদায়ক মনে হয়। আধুনিক যুবসমাজের একটি বড় অংশ আজ স্থায়ী সম্পর্ক এড়িয়ে চলে নিজের লক্ষ্য, কেরিয়ার, ভ্রমণ, অভিজ্ঞতা ও স্বাধীন সিদ্ধান্তের প্রতি বেশি মনোযোগী হওয়ার কারণে। এসব কারণে হুকআপ কালচার এখন চারিদিকে ছেয়ে গিয়েছে।
আজকের তরুণ সমাজ কেন ক্রমশ হুকআপ কালচারের দিকে ঝুঁকছে, তার পিছনে রয়েছে প্রযুক্তি, সমাজ, অর্থনৈতিক চাপ ও মানসিক কাঠামোর সমষ্টিগত প্রভাব। একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে ডেটিং অ্যাপ ব্যবহারকারীদের ৫৭ % মনে করেন ক্যাজুয়াল সম্পর্ক এখন বেশি গ্রহণযোগ্য কারণ এতে দায়বদ্ধতা কম এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বেশি।
ভারত, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের শহুরে তরুণদের মধ্যে হুকআপ কালচারের বিস্তার গত এক দশকে চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। বিভিন্ন সমীক্ষা ও গবেষণায় দেখা গিয়েছে, পুরুষদের মধ্যে নন-কমিটেড বা হাই-রিস্ক সম্পর্কের হার (প্রায় ৪%) মহিলাদের তুলনায় (০.৫%) বেশি। আবার অন্য গবেষণায় দেখা যায় প্রিম্যারিটাল সেক্সে অংশগ্রহণের হার পুরুষদের মধ্যে প্রায় ১৩% এবং মহিলাদের মধ্যে ৩%-এর কাছাকাছি। এখন সম্পর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে স্থায়ী প্রতিশ্রুতির বদলে রয়েছে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, মানসিক সামঞ্জস্য, এবং ইন দ্য মোমেন্ট অভিজ্ঞতা উপভোগ করার প্রবণতা। পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিকভাবে উদার শিক্ষা-পরিবেশ ও শহুরে কাজের চাপও এই পরিবর্তনকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। হুকআপ কালচার এখন আর গোপন নয়, বরং আধুনিক যুবসমাজের এক নতুন সামাজিক বাস্তবতা। ভারতে হুকআপ কালচারের বিস্তার অঞ্চলভেদে স্পষ্টভাবে আলাদা। দেশের বড় শহর যেমন মুম্বই, দিল্লি, ব্যাঙ্গালোর, কলকাতা, পুনে, হায়দরাবাদ এই সংস্কৃতির প্রধান কেন্দ্র। এখানে কর্মজীবী তরুণদের সংখ্যা বেশি, ডেটিং অ্যাপ ব্যবহারের হারও সর্বোচ্চ, ফলে ক্যাজুয়াল ঘনিষ্ঠতা স্বাভাবিক জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে। কলকাতা বিশেষভাবে উদার চিন্তাধারার শহর হওয়ায় তরুণ সমাজ, বিশ্ববিদ্যালয়পাড়া এবং সৃজনশীল পেশার মধ্যে হুকআপ কালচার ছড়িয়ে পড়েছে। দক্ষিণ ভারতের আইটি-হাব, বিশেষ করে ব্যাঙ্গালোর এবং কিছুটা চেন্নাই–কোচি— একই প্রবণতা অনুসরণ করে। অন্যদিকে উত্তর ভারতের শহুরে অঞ্চলগুলোতে (দিল্লি, চণ্ডীগড়, জয়পুর) এই সংস্কৃতি প্রচলিত হলেও সমাজিক ট্যাবুর কারণে তা প্রকাশ্যে কম দেখা যায়। মধ্য ভারত, পূর্ব ভারতের ছোট শহর, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, ছত্তিশগড়ের মতো অঞ্চলে এই প্রবণতা তুলনামূলকভাবে অনেক কম। কারণ সেখানে রক্ষণশীলতা ও পারিবারিক নজরদারি বেশি। ভারতীয় গ্রামাঞ্চলে হুকআপ কালচার প্রায় নেই। সম্পর্ককে আজও সেখানে পরিবার-নির্ভর এবং বিবাহকেন্দ্রিক কাঠামোয় দেখা হয়। ফলে, ভারতের ক্ষেত্রে ভৌগোলিক সীমা নয় বরং সামাজিক উদারতা, অর্থনৈতিক কাঠামো ও শিক্ষার মাত্রাই হুকআপ কালচারের বিস্তার নির্ধারণ করে। হুকআপ কালচারকে নিয়ে প্রচলিত ধারণা হল এটি নাকি শুধু নবপ্রজন্মের জীবনযাপনের অংশ কিন্তু বাস্তবে বয়সের সীমা অনেক বিস্তৃত। অবশ্যই ১৮–৩০ বয়সের তরুণ-তরুণীরা সবচেয়ে বেশি যুক্ত হয়, কারণ এই সময়ে স্বাধীনতা, নতুন অভিজ্ঞতার আকর্ষণ, ডেটিং অ্যাপের সহজলভ্যতা এবং কমিটমেন্ট এড়ানোর প্রবণতা বেশি থাকে। তবে ৩০ থেকে ৪৫ বছরের ব্যক্তি বা মহিলারা খুব দ্রুত হুকআপ সংস্কৃতির বড় অংশ হয়ে উঠছে। বিচ্ছেদ, সম্পর্ক ভাঙার পর নতুন করে জীবন সাজানোর তাগিদ, কর্মজীবনের চাপ এবং স্বল্পমেয়াদি সম্পর্কের সুবিধা এই বয়সকে হুকআপের জন্য আরও খোলা করে দিয়েছে।
হুকআপ কালচার চারপাশে এমন এক সূক্ষ্ম কিন্তু শক্তিশালী অর্থনীতি তৈরি হয়েছে, যা আধুনিক সম্পর্কের গতি, একাকিত্বের বোধ, এবং তাত্ক্ষণিক সংযোগের চাহিদাকে চতুরভাবে কাজে লাগায়। এই অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে আছে ডেটিং অ্যাপ যেমন টিন্ডার, বাম্বল, হিঞ্জের মতো প্ল্যাটফর্ম, যেগুলো অপশন আর তাৎক্ষণিক সুখ পেয়ে যাওয়ার মনস্তত্ত্বকে প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন, বুস্ট, সুপার লাইক ইত্যাদির মাধ্যমে সরাসরি মুদ্রায় রূপান্তর করছে। মানুষের প্রত্যাশা, উত্তেজনা, এমনকী অনিশ্চয়তাও এসব অ্যাপের কাছে একেকটা ব্যবসায়িক সুযোগ। এর পাশে দাঁড়িয়ে আছে পুরো এক বিউটি গ্রুমিং ইন্ডাস্ট্রি, যারা হুকআপ কালচারের ইমপ্রেশন তৈরির উদ্বেগকে পুঁজি করছে। নিখুঁত স্কিনকেয়ার, ট্রেন্ডি পোশাক, পারফিউম, হেয়ারস্টাইলিং সবকিছু এখন আলাদা করে মার্কেট করা হয় ডেটরেডি বা ফার্স্ট ইমপ্রেশন প্রুফ ট্যাগ দিয়ে। ফিটনেস সেন্টার, জিম, পার্সোনাল ট্রেনাররাও এই প্রবণতার অর্থনৈতিক ধারাকে আরও এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে। নাইটলাইফ ইকোনমিও এই চক্রের বড় খেলোয়াড়। বার, ক্লাব, লাউঞ্জ, ডেটস্পট সব জায়গাতেই এখন হুকআপ কালচারের ছাপ। বিশেষ ইভেন্ট, কাপল ডিল, মিট অ্যান্ড মিংগল রাত— সবই সম্পর্কের ক্ষণস্থায়ী উত্তাপকে ব্যাবসায়িক মোড়কে সাজিয়ে তোলে। পাশাপাশি উঠেছে সেক্সুয়াল ওয়েলনেস ব্র্যান্ড, কনট্রাসেপটিভ কোম্পানি, এমনকী সম্পর্ক বিষয়ক ইনফ্লুয়েন্সারদের এক নতুন দুনিয়া। যারা হুকআপ লাইফস্টাইলকে নিয়মিতভাবে কনটেন্ট, পণ্য ও পরামর্শের মাধ্যমে বাজারচর্চার অংশ বানিয়েছে। ফলে হুকআপ সংস্কৃতিই এখন অধিকাংশ মানুষের দোসর হয়ে উঠেছে।




